,

আরপিও সংশোধন করে খালেদা তারেককে সরানোর ষড়যন্ত্রে সরকার: ফখরুল

আলো নিউজ ২৪ ডেস্ক::

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারার অনুরুপ একটি ধারা নির্বাচন কমিশনের আরপিওতে সংযুক্ত করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করছে সরকার। এমনটাই মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আলমগীর বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে দলীয় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মত প্রস্তাবে বিলুপ্ত ৭ নম্বর ধারার অনুরূপ একটি ধারা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আরপিওতে সংযোজন করার অপচেষ্টা চলছে। এরপর ওই ধারার দোহাই দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। গত বুধবার ১১ই জুলাই জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম  খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসংসদীয় কটুবাক্যের ধারাবর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, বিএনপি গঠনতন্ত্রে ৭ ধারা পরিবর্তন করলো কেন? প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্য উদ্ভট, অলীক ও অন্তসারশুণ্য।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুধুমাত্র প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসত্য, বানোয়াট অপপ্রচার। বিএনপি গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা গত ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের দ্বারা সংশোধিত। আকস্মিকভাবে কয়েকদিন ধরে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরই মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক ও সুদুরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ।
সংগ্রামী সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপিকে বিপর্যস্ত করতে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। মঈন-ফখরুদ্দীন যে কায়দায় বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেছিল, সেই একই কায়দায় এখন পুনরায় বিছানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের জাল। বিএনপির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হবে। এরই অংশ হিসেবে সরকারের সংস্থাগুলো নানামূখী তৎপরতায় যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, সরকার তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংক্রান্ত কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য মাঠে নেমেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে সপ্তম ধারা বাতিলসহ দলের গঠনতন্ত্রে সর্বশেষ সংশোধন করা হয়। যা পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়। উল্লেখযোগ্য যে, আমাদের দলের দূর্নীতি বিরুদ্ধ অবস্থান স্পষ্টতর করার জন্য কাউন্সিলে দলীয় গঠনতন্ত্রের অংশ দলের সদস্য পদের আবেদন পত্র সংশোধন করে ‘আমি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো না’ এই বাক্যটি সংযোজন করা হয়। আমাদের জানামতে কোন দলের গঠনতন্ত্রে সদস্য পদ লাভের জন্য এমন ঘোষণা দেয়ার বিধান নেই। সর্বোচ্চ আদালত থেকে দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের সাজা পেয়েও আদালতকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে আওয়ামী অবৈধ সরকারের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এখনো সংসদে, মন্ত্রীসভায় এবং আওয়ামী লীগে তার সদস্যপদ ও নেতৃত্ব বহাল রেখেছেন। অথচ সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে কাল্পনিক সিন্ডিকেট-সংবাদ পরিবেশন করার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর একই রকম  বক্তব্যে প্রমানিত হয়-সরকার বিএনপি, চেয়ারপার্সন বেগম  খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুটিল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো-বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে যে ধারা বিলুপ্ত করেছে তার সঙ্গে মিল রেখে অনুরূপ একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিওতে) অন্তর্ভূক্ত করার ক্ষেত্র তৈরী করা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি ‘দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বিলুপ্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অপপ্রচার ও সরকারী ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকারের কোন অশুভ নীল নকশার অংশ না হবার জন্য আমি বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ এতো বোকা নয় যে, সরকারের এসব ছল-চাতুরী বুঝতে পারে না। সরকারের উচিৎ হবে এইসব নোংরা কৌশল থেকে বিরত থেকে সোজা পথে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। সরকারের এইসব অপকৌশল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না বলে আমরা বিশ^াস করি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেনÑ আগামী শুক্রবার বিকাল তিনটায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ আমাদের এ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এমএ মোশাররফ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মৎসজীবী দল নেতা আরিফুল ইসলাম তুষার প্রমুখ

মতামত...