,

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মিডিয়াবান্ধব করতে চাই

ডেস্ক নিউজ ::

বাক স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করে কোনো আইন সরকার করবে না জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে গণ ও মিডিয়াবান্ধব করতে চাই।

বুধবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যম মালিক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

আইন মন্ত্রণালয় বলছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে। আইনের খসড়ার বিভিন্ন ধারা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের উদ্বেগ রয়েছে।

গণমাধ্যম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খসড়ার সংশোধনগুলো নিয়ে তারা আলাপ-আলোচনা করেছেন। তারপরও কিছু কিছু ব্যাখ্যা তারা আমার কাছে চেয়েছিলেন। তারা নতুন কিছু সাজেশন দিয়েছেন।

‘সংবিধানে যে বাক-স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল, সেটা যেন বন্ধ না হয় একথা তারা বলেছেন। সেখানে আমি আগেও বলেছি, এখনও পরিষ্কারভাবে বলতে চাচ্ছি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কিছুতেই বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সংবিধানের বাক-স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করে কোন আইন করবে না।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এই আইনের মধ্যে কিছু কিছু প্রোটেকশনের কথা বলা হয়েছে সেখানে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে সেগুলো যাতে আমরা আরেকটু ভালোভাবে দেখি। সেই সুপারিশগুলো আমরা নিয়েছি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সুপারিশগুলো আমি পৌঁছে দেবো। আমরা আরেকবার বসবো। তারপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যে সিদ্ধান্ত হবে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিলটি পাস হবে।

তিনি বলেন, এই আইনটার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা সকলেই একমত প্রকাশ করেছি। এই আইনটা গণবান্ধব ও মিডিয়াবান্ধব হোক এটাই আমরা চাই। একটা ভালো আইন হওয়ার যে পথ এই আলোচনায় সেই পথ পরিষ্কার হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা আইন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই এক্সারসাইজ চলতে থাকবে। যাতে পুরনো আইনের অভিজ্ঞতা থেকে সেগুলো দূর করে আমরা যেন সারা বিশ্বের কাছে একটা রোল মডেলের মতো আইন করতে পারি।

আইনটি কবে নাগাদ পাস হতে পারে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা আইন মন্ত্রণালয়ের আইন নয়, এটা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইন। তারা যখন পাস করার জন্য উপস্থাপন করবেন তখন। ১২ জুলাই হয়তো পার্লামেন্ট শেষ হয়ে যাবে, দুই মাসের মধ্যে পার্লামেন্টকে আবার বসতে হবে। আমার মনে হয় নেক্সট সেশনে এই আইনটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অনেকটা হরণ হয়ে যাবে দাবি করে তা পাসের আগে পর্যালোচনার দাবি করে আসছিলেন সাংবাদিকেরা।

দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, খসড়া আইনটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, আমরা আইনমন্ত্রীকে অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আমরা এখনও পৌঁছাইনি। আমরা ক্রমান্বয়ে আলোচনার মধ্যে আছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে রয়েছে, তারা উদ্যোগী হয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই খর্ব না হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যাতে রক্ষা করা হয়। এটা মন্ত্রীও বলেছেন, সরকারের উদ্দেশ্যও এটা।

‘ওনারাও চান না সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব হোক। তবে আইনের ধারার মধ্যে মিস ইন্টারপ্রিটেশন থাকতে পারে, যেগুলোর উপরে আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাখ্যায় অস্পষ্টতা ছিল, আইনমন্ত্রী সেগুলো স্পষ্ট করেছেন। সংবিধান বা অন্য আইনের সঙ্গে কোনো কিছু সাংঘর্ষিক কিনা- সেগুলো বলেছেন। আমরা বলেছি দেশের স্বার্থে নিরাপত্তার স্বার্থে একটা নিরাপত্তা আইন চাই। আইনের ব্যাখ্যামূলক ও স্পিরিট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, আমরা মনে করি এই আইনের মাধ্যমে আমাদের সাংবাদিকতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না।

তিনি বলেন, অপসাংবাদিকতা, ডিজিটাল মিডিয়ায় যে নৈরাজ্য চলছে, গুজবের ফেক নিউজের সংস্কৃতি চলছে সেটার মোকাবেলা করা প্রয়োজন। সেটা উনি যেমন মনে করেন, আমরা মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় যারা কাজ করি তারা আরও বেশি প্রয়োজন বলে মনে করি।

মতামত...