,

যাচাই প্রক্রিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাহায্য করবে: জাতিসংঘ

ডেস্ক নিউজ ::
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া তাদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এই প্রক্রিয়া রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।’ বাংলাদেশ সরকারের সাথে রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা- ইউএনএইচসিআর। ফারহান বলেন, ছয় মাসের এই প্রক্রিয়া নিরাপত্তা, পরিচয় ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ, সাহায্যের ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের উদ্দেশে একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেস) তৈরিতে সাহায্য করবে।

গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে বাধ্য হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখের অধিক রোহিঙ্গা। যারা বিগত দশকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল শরণার্থী। তিনি বলেন, চোখের স্ক্যান, আঙুলের ছাপ ও ছবিসহ বায়োমেট্রিক তথ্য ১২ বছরের ঊর্ধ্বে সকল শরণার্থীকে স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে। প্রক্রিয়া শেষে শরণার্থীদের নতুন পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে।

এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তারা স্বতন্ত্র পরিচয়ের প্রমাণ পাবে বলেও জানান তিনি। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। ফারহান বলেন, বাংলাদেশ সফরকালে মহাসচিব দোভাষীদের মাধ্যমে অনেক বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন।

এর আগে, ঢাকায় অবস্থিত ইউএনএইচসিআরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিচয় ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যাদি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে একত্রে যাচাইকরণের কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর কর্তৃক যৌথভাবে প্রদত্ত ক্রেডিট কার্ড আকারের প্লাস্টিকের এই পরিচয়পত্র বাংলাদেশে সুরক্ষা প্রদান এবং সহযোগিতা লাভের জন্য শরণার্থীদের সাহায্য করবে।
ইউএনএইচসিআর- এর কক্সবাজার কার্যক্রমের প্রধান কেভিন জে. অ্যালেন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বৈধ পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এটি পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব আছে, তাদের অধিকারকে অবশ্যই সম্মান দেয়া উচিৎ এবং সমাধানের ভিত্তি স্থাপন করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

তিনি বলেন, এ কাজে ইউএনএইচসিআর এবং সহযোগী সংস্থার প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি সরকার ও স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইতিপূর্বে নিবন্ধিত সকল শরণার্থীদেরকেও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, ‘সহায়তার পরিকল্পনা আরো ভালভাবে করতে, সেবা কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং নিবন্ধিত সকল পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করতে এ কাজ সরকার এবং সংস্থাগুলোকে সাহায্য করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমাধান খুঁজে বের করতেও এটি ভূমিকা রাখবে।’ ইউএনএইচসিআর জানায়, মিয়ানমার থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হচ্ছে এই যাচাই প্রক্রিয়া।
এই প্রক্রিয়া শরণার্থীদের পরিচয় যাচাই, তারা যে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে সেটি প্রতিষ্ঠা এবং স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: ইউএনবি

মতামত...