,

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্মিত বিশ্ব

ডেস্ক নিউজ :

সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিস্মিত। আমরা সমুদ্র থেকে মহাকাশে গিয়েছি, সেজন্য বিশ্বের সবার দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। আর সেকারণেই সবাই বাংলাদেশে আসছেন।

বুধবার (০৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরের সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 ‘এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো প্রশ্ন খুঁজে পাই না। কারণ আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাবো। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক কাজ করছি।

তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে, সেখানে কয় টাকা খরচ করে? সিট ভাড়া ২৫ টাকা, খাবার ৩০ টাকা। তারপরেও আমরা লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে। দেশটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার স্বপ্ন দারিদ্র্যমুক্ত দেশ আমরা করতে চাই। তা করতে হলে শিক্ষাই একমাত্র হাতিয়ার।

জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের দেশে অনেকেই আসছেন। এর একটা কারণ হলো- বাংলাদেশ মাত্র ৯ বছরের মধ্যে যে উন্নয়ন করেছে সেই উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিস্মিত। যেহেতু উন্নয়নের ধারাটা এতো দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেছে; আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেন এর ম্যাজিকটা কি? ম্যাজিক কিছুই না। আমি দেশকে ভালোবাসি, মানুষকে ভালোবাসি, মানুষের কল্যাণে কাজ করি। সেটিই কারণ। জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তা বাস্তবায়ন করা আমার উদ্দেশ্য। আর এটাই আমার একমাত্র কর্তব্য বলে আমি মনে করি, সেকারণে এতো কাজ করা। সেজন্যই আজ সবাই আসছেন।

আমরা ১১ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছি। পৃথিবীর বহু দেশ আশ্রয় দিতে চায়নি। আমরা দিয়েছি। আশ্রয় শুধু দেওয়াই না, তাদের বাসস্থান, চিকিৎসা, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থাসহ সবরকম ব্যবস্থা করেছি। এতো সুশৃঙ্খলভাবে এসব করেছি এটাও তাদের কাছে বিস্ময়ের কারণ। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনাও করে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু মারামারি-কাটাকাটি করছি না, আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে এদের ফেরত দিতে পারি সেই চেষ্টা করছি। সেকারণে এখনো এখানে সবাই আসছেন এসব দেখতে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে আমরা প্রায় ১১ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তাদের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা মনে করি যে, রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু মিয়ানমারে এবং সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য আমরা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতিয়েরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ  তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের উপর সংঘটিত জঘন্যতম অপরাধের দায় নিরুপণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মিয়ামনার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বছর জুন মাসে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইউএনডিপি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন হলে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হবে।

সংসদ নেতা বলেন, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছি। আমরা সমুদ্র থেকে মহাকাশে যাচ্ছি। সেজন্য এখন সবার দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে। এই বাংলাদেশকে এক সময় মানুষ মনেই করতো বাংলাদেশ মানে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। এখন আর বাংলাদেশের মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় না, ভবিষ্যতেও আর ঘুরে বেড়াবে না। আমরা সেই ব্যবস্থা করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

‘তবে এদেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, মাদক এগুলো কারা সৃষ্টি করে গেছে। দুর্নীতিকে কারা নীতি করেছে? দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন কারা করেছে? বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তারাই এসব করেছে। এখন আর সেই বাংলাদেশ নেই। এখন আমরা গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার করার পর বাংলাদেশকে যেভাবে পেছনে ঠেলে দিয়েছিলো সেখান থেকে আজ আমরা মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি’।

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে আমাদের আজকের বাংলাদেশ। ৪২ বছর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকার পর বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ, যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস। আওয়ামী লীগ সরকারের জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন এবং অদম্য অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে। মাত্র ৯ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে সারা বিশ্ব আজ বিস্মিত।

সংসদ নেতা বলেন, ভিক্ষা, অনুদান এ শব্দগুলো আমি বদলে ফেলতে চাই। বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য চায় না, বিনিয়োগ চায়। এটি দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন ও স্বীকৃতি। জাতি হিসেবে আমাদের একটি বড় অর্জন। আশা করছি শিগগিরই আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক সমতা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি যে, পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। পদ্মাসেতুসহ আমরা ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এছাড়া আমার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত ১০টি বিশেষ উদ্যোগেও বাস্তবায়ন করছি, যা ‘শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ’ নামে পরিচিত। এগুলো হলো- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা।

মতামত...