,

টেকনাফে ইয়াবা ডন বাবুল মেম্বারসহ ১৪ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা ও ১ মাসেই সোয়া ৭ কোটি টাকার মাদক আটক

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ::

টেকনাফে মাদক বিরোধী অভিযানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত, সীমান্তের অন্যতম ইয়াবা কারবারী ও টেকনাফের বহুল আলোচিত ইয়াবা ডন এবং হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামশুল আলম বাবুলসহ ১৪ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমা পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে বাবুলও অপর একজনকে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদন্ডসহ ১২ জনকে ৬ মাস করে সাজা প্রদান করেছে।
অপর ধৃতরা হচ্ছে বাবুল মেম্বারের সহযোগী হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়া এলাকর সামশুল আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম(২২), সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকার আলী আহমদের ছেলে নুরুল আজিম(১৯), টেকনাফ পৌরসভা নাইট্যং পাড়া এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে আব্দুল হক (৩৯), উত্তর জালিয়া পাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম মুন্না (৩৮), অলিয়াবাদ এলাকার ছিদ্দিকীর ছেলে ছৈয়দ করিম(২২). পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকার অলি আহমদের ছেলে নাজির হোসেন(৩২), সাবরাং পেন্ডা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (২৬), সাবরাং হারিয়াখালী এলাকার মাহমুদের ছেলে আব্দুল করিম (৩৫), একই এলাকার মোঃ হোছনের ছেেেল মোঃ নুরুল ইসলাম(৪৬), লাফারঘোনা এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে মোঃ হাসান (৩৮) একই এলাকার মৃত আব্দুল গণির ছেলে মোঃ রফিক,বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার নুর আহমদের ছেলে আব্দুর রশিদ(১৯), জাজিরা ছোট কৃঞ্চনগর এলাকার সিরাজ শেখের ছেলে বাচ্চু মিয়া(৩০)। ৩ জুলাই সোমবার পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই ১৪ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে একইদিন বিকালের দিকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদের মধ্যে ২ জনকে ২বছর ১২ জনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। সাজা প্রাপ্তদের কারাগারে প্রেরণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টপ তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন হচ্ছেন বাবুল মেম্বার। তিনি হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। তাকে গ্রেফতারের ফলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার খবর পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পলাতক রয়েছে।
বাবুল মেম্বারের বিরুদ্ধে ডজন খানেক ইয়াবার মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি ফুলের ডেইলে দৃষ্টিনন্দন একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। প্রসঙ্গত, বাবুল মেম্বার গ্রেফতার হলেও হ্নীলার আরো অনেক ইয়াবা ডন এখনো এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই বিজিবি অভিযান চালিয়ে আরো ১৫ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের মধ্য থেকে ৬ জনকে ২ বছর, ১ জনকে ১ বছর, ৩ জনকে ৭ মাস এবং ৫ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে গত জুন মাসে টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপুর্ণ এলাকায় টহল পরিচালনার মাধ্যমে ৬ কোটি ৭৪ লক্ষ ৭২ হাজার ৯২৩ টাকা মুল্যের ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আটক করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ইয়াবা মাদক সবার শীর্ষে রয়েছে। এসব মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় মোট ১০২টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ১৪ জন মাদক পাচারকারী ও চোরাচালানীকে আটক করা হয়েছে।
টেকনাফ-২ বিজিবি’র পরিচালক অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান ‘টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিওপি ও ক্যাম্প সমূহ হতে ১ জুন হতে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৬ কোটি ৭৪ লক্ষ ৭২ হাজার ৯২৩ টাকা মূল্যমানের ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আটক করে। জুন এক মাসে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮৫৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৮০৭ পিস মালিকবিহীন এবং ২৬ হাজার ৪৬ পিস মালিকসহ। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৪ জন ইয়াবা পাচারকারী আটক করা হয়। এর মধ্যে পলাতক আসামী ১ জন।
এছাড়া রয়েছে ৩টি মামলায় ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৫০ টাকা মুল্যের ২ হাজার ৬২৯ ক্যান বিয়ার, ৩টি মামলায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মুল্যের ৮০ বোতল বিদেশী মদ, ১টি মামলায় ১৪ হাজার টাকা মুল্যের ৪ কেজি গাঁজা। ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫০ টাকা মুল্যের উদ্ধারকৃত মাদকে ৭টি মালিকবিহীন মামলায় কোন আসামী আটক ও পলাতক নেই।
তাছাড়া জুন এক মাসে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৭৩ টাকা মুল্যের বিভিন্ন চোরাইপণ্য উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্য উদ্ধারে মোট ৮০টি মামলায় কোন আসামী গ্রেপ্তার নেই। মাত্র ২ জন আসামী পলাতক রয়েছে’

মতামত...