,

সংসদে বাজেট পেশ আজ

ডেস্ক নিউজ::

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বছরের শেষে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে খুশি করার কৌশল নিয়ে প্রায় পৌনে ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বাজেটে ভোটার তুষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হবে এমন ইঙ্গিত মন্ত্রী ইতিমধ্যে দিয়েছেন। বাজেটে নতুন করে করারোপ করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়ারও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রস্তাবিত বাজেটের
আকার হবে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মতো।
আজ পেশ করা বাজেট হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের শেষ বাজেট। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজের ১২তম ও জাতীয় সংসদের ৪৮তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বাজেট উপস্থাপনে রেকর্ড করতে যাচ্ছেন। ২৮শে জুন বাজেট পাস হবে।
সূত্র জানায়, ব্যাংক খাতের করপোরেট করহার কমছে আড়াই শতাংশ। আজ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে বাজেট পেশের সময় এ সুখবর দেবেন। নতুন বাজেটে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানোর ফলে বাড়াতে হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট। মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু কর বা রাজস্ব আদায় করা হবে কমবেশি ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এত টাকা করের বোঝা জনগণের কাঁধে দিলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
গত সোমবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এই বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হচ্ছে না। বরং করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব আসতে পারে। আর ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের খুশি করতে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি করপোরেট ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাবও এবারের বাজেটে আসতে পারে বলে মুহিত জানিয়েছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসছে। ভোটার টানার লক্ষ্য নিয়েই এবার জনতুষ্টির বাজেট নিয়ে আসছেন তিনি। এটা হবে জনগণের জন্য সুখবর। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবাসহ বিভিন্ন উপকারভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব বাজেটে থাকছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ভোটের বছরে পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করছেন না অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমরা ভেবেছিলাম দেশে ১৫ লাখের মতো করদাতা হবে। সেই সংখ্যা ৩০ লাখে পৌঁছেছে।

নির্বাচনের আগে ভোটারদের সামনে উন্নয়ন দেখাতে এরই মধ্যে এডিপির আওতায় বড় বড় প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মেগা প্রকল্পেই বরাদ্দ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারের অগ্রাধিকারের ১০ মেগা প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের জন্য রাখা হয়েছে যথাক্রমে ৪ হাজার ৩৯৫ কোটি ও ৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। নতুন এডিপির ২৬ শতাংশ বা সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে পরিবহন খাতে। ভোটের বছরে রাস্তাঘাট নির্মাণ প্রকল্পেই সংসদ সদস্যদের আগ্রহ বেশি। সব মিলিয়ে আগামী এডিপিতে ১ হাজার ৪৫২টি প্রকল্প রয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় বাদ দিলে অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে আগামী বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং ভর্তুকিতেই যাবে এক-তৃতীয়াংশ। এর পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। নতুন বাজেটে বেসরকারি খাতে পেনশন ব্যবস্থা চালু নিয়ে একটি রূপরেখা থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। রাজস্ব বাজেট থেকে এই অর্থ জোগান দেয়া হবে। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাদেশ এবং সংস্থার সহায়তায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরকে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হতে পারে।

আর সেক্ষেত্রে এনবিআরকে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্য থেকে ৭১ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে হবে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্য থেকে প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। বরাবরের মতোই মূল্যসংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে আদায় করতে হবে সবচেয়ে বেশি। এবার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ১ লাখ ২০০ কোটি টাকা আয়কর এবং শুল্ক খাতে ৮৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে এনবিআরকে। ২০১৯ সালের ১লা জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন চালু হবে। এবার নতুন ভ্যাট আইনের প্রশ্ন না থাকলেও বর্তমান ভ্যাট হারে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ভ্যাটের হার নির্ধারণ করা আছে নয়টি স্তরে। এই স্তরগুলো হল- ১.৫, ২.৫, ৩, ৪, ৪.৫, ৫, ৬, ১০ ও ১৫ শতাংশ। এবার তা কমিয়ে ছয়টি স্তরে হার নির্ধারণ করা হতে পারে। স্তরভিত্তিক হার হতে পারে ২, ৩, ৪, ৬, ১০ ও ১৫ শতাংশ। তবে ভ্যাটের সর্বোচ্চ হার ১৫ শতাংশেই থাকবে। আর আগামী বছর ভ্যাট হারে স্তরের সংখ্যা আরো কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনা হতে পারে।

এবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর হার সাড়ে ২২ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। তবে অর্থমন্ত্রী আগামী কয়েক বছরে সার্বিকভাবে করপোরেট কর হার কমিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা দেবেন।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা থাকবে নতুন বাজেটে। বর্তমানে আয় অনুযায়ী শূন্য, ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। এবার ৫ কিংবা সাড়ে ৭ শতাংশ হারের আরেকটি নতুন কর স্তর রাখা হতে পারে। তাতে নিচের দিকের করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে এনবিআর আশা করছে। তাছাড়া করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর একটি রাজনৈতিক চাপও সরকারের ওপর আছে। তা করা হলে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা হতে পারে।
গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ইন্টারনেট কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে যে আয় করছে, তাকে কীভাবে করের আওতায় নেয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই আইনে। ফলে এসব মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রদেয় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা যাচ্ছে না। এখন ডিজিটাল মার্কেটিং খাত হিসেবে এসব খাত থেকে আয়কর নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে এনবিআর। আর এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকবে বাজেটে।
এ ছাড়া এনবিআরের শুল্ক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে। কিছু খাদ্যপণ্যে ভ্যাট ছাড় দেয়া হতে পারে। রাজস্ব প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনাও থাকবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়। উৎসে কর আহরণের জন্য আলাদা কর অঞ্চল গঠনের ঘোষণাও আসতে পারে এবার। এ ছাড়া আরো কয়েকটি কর অঞ্চল গঠন করা হবে। বর্তমানে ৩১টি কর অঞ্চল আছে।

মতামত...