,

টেকনাফে প্রধান শিক্ষক বিহীন চলছে ২৫ প্রাইমারি স্কুল! শিক্ষার মান নিয়ে শংকা অভিভাবক

গিয়াস উদ্দীন ভুলু, টেকনাফ ::
শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের বেশীর ভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদ শূণ্য রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান। এতে বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আবার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৭ শত থেকে ৮ শত। অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা মাত্র ৩ থেকে ৪ জন।
খৌঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলায় পুরনো ৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নতুন ভাবে সরকারী হওয়া ১৩টি বিদ্যালয়সহ ২৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।
এদিকে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কারনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের শুরুতেই পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার উন্নতি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে অভিবাবকরা।
উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া ও  শিক্ষার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তথ্য সুত্রে আরো জানা যায়, প্রধান শিক্ষক বিহীন স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩টি নতুন জাতীয় করণকৃতসহ সর্বমোট ২৫টি। এর মধ্যে ৮টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবসর গ্রহন করেছেন অনেক আগে, কিন্তু এই পদটি শূন্য হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা পুরণ করা সম্ভব হয়নি সংশ্লিষ্টদের।
অপরদিকে নতুন জাতীয় করণকৃত ২৫টি স্কুলের মধ্যে ১৩টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাবে পদ গুলো পুরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক বিহীন স্কুল গুলোর মধ্যে রয়েছে হোয়াইক্যং কেরুনতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৈংগাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোয়াইক্যং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হ্নীলার রঙ্গিখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়া শীলখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকনাফ সদর পল্লানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্টমার্টিনের জিনজিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার টেকনাফ বার্মিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোয়াইক্যং হরিখোলা শিশু কল্যাণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। হাজী মুহাম্মদ হোছন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উনছিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশখালীয়াপাড়া সরকারী বিদ্যালয়। রোজারঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হ্নীলার আলী আকবরপাড়া সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়। দরগাহপাড়া সুফিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাদীমুরা এম আর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকনাফ সদর বড় হাবির পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাবরাং চান্দলীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়া নোয়াখালীয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। কচুবনিয়া এমপি বদি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শামলাপুর জব্বারিয়া শাহীন-শরীফ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীরডেইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
তবে ওই সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এতে অত্র স্কুল গুলোর পাঠদান, শৃংখলা এবং স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনসহ আভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে।
বেশ কয়েকটি স্কুলে পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল ও দলাদলির অভিযোগ উঠেছে। আর প্রধান শিক্ষক বিহীন স্কুল গুলোতে লেখাপড়ার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে বলেও অভিবাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এব্যপারে স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, টেকনাফ উপজেলার মানুষ শিক্ষা থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে, অথচ দিনের পর দিন স্কুল গুলোতে শিক্ষক সংকট হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা আরো বলেন, এই ভাবে চলতে থাকলে তাহলে এই উপজেলার শিক্ষার মান আরো কমে আসবে। তারা দাবী করেন স্থানীয় এমপি আব্দুর রহমান বদি যদি একটু চেষ্টা করলেই এই সমস্যা গুলো নিরসন করা খুবেই সহজ হবে এবং তাঁর হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
টেকনাফ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এমদাদ হোসেন জানান, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোর শিক্ষক সংকট দুর করতে সরকার নতুন শিক্ষক নিয়োগ করার লক্ষ্য নিয়ে গত ১১মে একটি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতার অংশ হিসাবে আমরা টেকনাফ উপজেলার যে সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট সে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্টানে খুব শীঘ্রই নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবো।#######

মতামত...