,

মিয়ানমার থেকে আসছে মদ, বিয়ার ও বস্তা বস্তা ইয়াবা

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ ::

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উৎপাদিত ইয়াবা পাচারের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সীমান্ত দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রসাশনের সদস্যরা দিন রাত পরিশ্রম করেও ইয়াবা পাচার ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারন এই অবৈধ ব্যবসা করে খুব সহজে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। সেই সুত্র ধরে দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ইয়াবা কারবারীদের সংখ্যা।
এদিকে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে সরকার যতই কঠোর হচ্ছে, ততই বেড়ে যাচ্ছে ইয়াবা পাচারের সংখ্যা। বর্তমানে এমন কোন দিন নেই বস্তা বস্তা ইয়াবা ধরা পড়ছে না।
সীমান্ত রক্ষি আইন-শৃংখলা বাহিনীর শত চেষ্টা করেও এই মরণ নেশা ইয়াবা পাচার কমাতে সক্ষম হচ্ছে না। বরং ইয়াবার পাচার আগের চেয়ে দ্বিগুন বেড়েছে।
এতে মিয়ানমারের উৎপাদিত ইয়াবার আগ্রাসনে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। তথ্য সুত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তরক্ষী বিজিপিসহ তাদের আইন-শৃংখলা বাহিনীর বেশীর ভাগ সদস্য ইয়াবা পাচারে সরাসরি জড়িত।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকায় ইয়াবা উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। যেগুলো মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহায়তায় পরিচালিত হয়ে থাকে।
আর সেই দেশের ইয়াবা কারবারীদের তারা সক্রিয় ভাবে  সহযোগীতা করে।
সুত্রে আরো জানা যায়,ইদানিং বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার আকিয়াব শহর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ইয়াবা সর্ববৃহৎ চালান সেই সুত্র ধরে ইতি মধ্যে বিজিবি,কোস্টগার্ড,ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বেশ কয়েকটি ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান।
অপরদিকে মাদক কারবারের মুলহোতারা চট্রগ্রাম ও ঢাকা শহরে বসে মিয়ানমার থেকে গভীর সাগর পথ ব্যবহার করে নিয়ে আসছে লক্ষ লক্ষ বস্তাবন্দি ইয়াবা।
সেই সাথে তাল মিলিয়ে টেকনাফ উপজেলার ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ইয়াবাসহ হরেক রকমের মাদক পাচার। তার কারন এই সীমান্ত এলাকাটি একে বারেই অরক্ষিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক পাচার প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির কর্মকর্তা ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় অসাধু বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতারা ইয়াবা কারবারীদের সহযোগীতা করে অভিযুক্ত।
এমনকি এই এলাকার বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছোট বড় অনেক রাজনৈতিক কর্মি এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে একাধিকবার ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত গডফাদারদের নতুন নতুন তালিকা তৈরি করা হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় অপারেশন তেমন কোন কার্যক্রম নেই। কিন্তু তৈরী হচ্ছে পুনরায় ইয়াবা কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের আরো তালিকা।
ইয়াবা ব্যবসায়ের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে জড়িত প্রায় ১২ শতাধিক মূল ব্যবসায়ীর নতুন তালিকা রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
বর্তমানে এই তালিকা এখন অনেকটাই ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় র‍্যাব, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফর, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারের তালিকা তৈরি করা হয়।
এব্যপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তার সাথে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,
ইদানিং টেকনাফ উপজেলার প্রায় এলাকায় খুব সহজে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। এতে প্রতিনিয়ত আসক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে তরুন বয়সি যুবকরা। এই মাদক সেবীদের কারনে অত্র এলাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নারী নির্যাতন, খুন, ছিনতাই, ডাকাতিসহ ছোট বড় অনেক অপরাধ।
টেকনাফ মডেল থানার (ওসি) রনজিত বড়ুয়া বলেন টেকনাফ উপজেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল রাখার জন্য আমাদের সদস্যরা মাদক পাচার,মাদক সেবনকারী,ও বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত থাকা অপরাধীদের আইনের আওতাই নিয়ে আসতে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরো বলেন অভিযানের সফলতা হিসাবে আমি আসার পর টেকনাফ থানার পুলিশ সদস্যরা মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি  ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।####

মতামত...