,

টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে জনবল সংকট : অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ ::

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি উন্নয়ন ও নিমার্নকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রতি অর্থবছরে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় উন্নয়ন খাতে কোটি কোটি অর্থ বরাদ্ধ দেন। এসব অর্থের বরাদ্ধ উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) দপ্তর উন্নয়ন ও নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করেন।
টেকনাফ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত পর্যটন এবং রোহিঙ্গা সমস্যায় জর্জরিত ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা। রোহিঙ্গা আগমন এবং বসবাসের কারণে এখানকার উন্নয়ন স্লান হয়ে যাচ্ছে। সম্পদের ভরপুর এবং পযটন এলাকা হিসাবে উন্নয়ন অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন বলে সুশীল সমাজ মনে করেন। উন্নয়ন অগ্রযাত্রার (২০০৯-২০১৭) এ ৯ বছরে টেকনাফ উপজেলার ৬ ইউনিয়নে পল্লী সড়ক উন্নয়ন, পল্লী রক্ষনাবেক্ষণ, সেতু/কালভাট নির্মাণ, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, হাটবাজার উন্নয়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেলটার নিমার্ণ, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, বাংরাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ছোট বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। যাহা অতীতে উন্নয়নের আশার আলো দেখেনী সীমান্তের জনপদের মানুষ। এসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো রোহিঙ্গাদের পদভারে উন্নয়ন স্লান হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের বৃক্ষনীধন, পাহাড় কাটা, পাহাড় জনবসতি গড়ে উঠায় প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে নিম্মাঞ্চল জনবসতির উপর। অতিবৃষ্টিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নাফ নদী খাল বিল। পাহাড়ী ঢলে গ্রামীণ অবকাঠামো ব্রীজ ও সড়ক উন্নয়ন, প্রকল্প-সমূহ ক্ষতিগ্রস্থ ও বেস্তে যাচ্ছে। সৃষ্ঠ পরিকল্পনা এবং স্বদিচ্ছার অভাবে এসব উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ বেশীদিন টেকসই থাকেনা। ফলে সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে মাত্র। খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের তেমন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনী। তৃনমূল মাঠ পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা অগ্রাধিকার না পাওয়াতে উন্নয়নে চলছে বেহাল অবস্থা। অনুসন্ধান করতে গিয়ে যে সব তথ্য ভেসে উঠেছে, তার মধ্যে উন্নয়নে সমন্নয়হীনতা, জবাবদীহিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অযোগ্য ঠিকাদার, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের গুনগতমান সরেজমিন পরিদর্শন ও পরীক্ষা নীরিক্ষা ব্যাতীত অর্থ ছাড় দেয়াসহ অহরহ অভিযোগ থাকলেও এর প্রতি সময় সাপক্ষে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে উন্নয়নের কাংখিত সফলতার আশার আলোর মূখ দেখছেনা টেকনাফবাসী। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাল নাই, তলোয়ার নাই, নীধিরাম নামক এ দপ্তরটি হয় ব ব ল, অবস্থার মধ্যে রয়েছে। গত ৫ বছর যাবৎ এ দপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারী আসে আর যাই। বর্তমানে এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জনবল সংকট চলছে। মাত্র একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ১জন কার্য্যসহকারী দিয়ে এ উপজেলার পৌরসভাসহ ৭ ইউনিয়নে ২০১৭-১৮ চলতি অর্থ বছরে ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে যেনতেনভাবে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি সাইক্লোন সেলটার। প্রতিটি সাইক্লোন সেলটারে ব্যায় ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা, সড়ক মেরামত, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবণ ও স্কুল মেরামত। টেকনাফ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আবছার উদ্দীনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে, ঠিকাদারদের সাথে সমন্নয়হীনতা, ফাইল আটকিয়ে অর্থ আদায়, শতকরা ১২% শতাংশ অর্থ নিয়ে ভাগভাটোয়ারা, উন্নয়ন কাজের ধীরগতি, প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের গুনগতমান যাচাই বাছাই না করে অর্থছাড়, দপ্তরের অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে সমন্নয়হীনতা, একনায়কত্বের মনোভাবসহ তার আর্থিক ও মানষিক নির্যাতনে এ দপ্তরে কাজের চাপে অনেকেই ইতিপূর্বে স্বইচ্ছায় বদলী হয়ে গেলে দীর্ঘদিন যাবৎ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি হয়ে যায় জনবল সংকট। উক্ত বিতরকৃত ও জনশ্রুত ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছচারিতার কারণে উপজেলার সকল উন্নয়ন প্রকল্প স্লান হয়ে যাবার আশংখা করছেন, সমাজের বিশিষ্ঠজনেরা। তার এ অনৈতিক কাজের প্রেক্ষিতে খোদ জনপ্রতিনিধি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদার ও কর্মচারীরা পর্যন্ত বিব্রত অবস্থার মধ্যে ভোগছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ দপ্তর থেকে সদ্য বদলী হয়ে যাওয়া একজন উপসহকারী প্রকৌশলী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার চাকুরী জীবনে এরকম লোভী ও স্বার্থপর কর্মকর্তা আমি দেখেনী। এ দপ্তরে ধার্য্যকৃত পদ ২০জন। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৬ জন। তৎমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর পদটি দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর যাবৎ শূণ্য রয়েছে। অন্যান্য শূণ্য পদগুলোর মধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলী ১জন, সার্ভিয়ার ১জন, নকসা কারক ১জন, কমিউনিটি অগ্রানাইজার (সিও) ১জন, হিসাব রক্ষক ১জন, অফিস সহকারী ১জন, কম্পিউটার অপারেটর ১জন, ইলেক্টেসিয়ান ১ জন, নাইট গার্ড ১ জন ও কার্যসহকারী ১জন। টেকনাফ উপজেলা আওমীলীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী বলেন, স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এটি সরকারের প্রতিচ্ছবি। এর উন্নয়নে সরকারের ভাবমুর্তি প্রকৃত উন্নয়নে পরিচয়। কাজেই এর জবাবদীহিতা নিতান্ত প্রয়োজন। টেকনাফ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন জানান, জনবল সংকটের অতিশিগ্রী কেটে যাবে। এর পরও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন গাফলতি করা হচ্ছে না। অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান।

মতামত...