,

টেকনাফ কায়ুকখালী খাল থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলার আসামী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

টেকনাফ পৌরসভার মধ্যম জালিয়া পাড়ার মৎস্যজীবি আবদুস সালাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেকে অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই বলে দৃঢ়তার সাথে দাবী করেন।

বার্তা পরিবেশক ::

টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খাল থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় জালিয়াপাড়ার আব্দুস সালামকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলার আসামী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গত ১১ এপ্রিল টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ রাতে অভিযান  চালিয়ে মালিক বিহীন উক্ত ইয়াবাগুলো আটক করে। উক্ত ইয়াবা মামলায় তাকে আসামী করায় ২০ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভার একটি অভিজাত হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

টেকনাফ পৌরসভার মধ্যম জালিয়া পাড়ার মৎস্যজীবি আবদুস সালাম নিজেকে অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই বলে দৃঢ়তার সাথে দাবী করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১১ এপ্রিল টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খালের পাড়ে অবস্থিত জনৈক সৈয়দ আলমের মালিকানাধীন বরফ কলের ঘাটে একটি ফিশিং বোটে অভিযান চালিয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ ৩ লাখ ৮০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান উদ্ধার করে। উক্ত ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ৮ জনকে আসামাী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং ১১৫৬।

কিন্তু ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত (জব্দকৃত) ফিশিং বোটের মালিক হিসাবে নাম উল্লেখ্য করে উক্ত মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য যে, এফবি সাদিয়া নামের আমার মালিকানাধীন ফিশিং বোটটি অধীন বিগত ১৪/০৯/২০১৭ ইং তারিখে শাহপরীরদ্বীপের জনৈক কামাল মিয়া, পিতা মৃত আবুল হোসন, সাং-শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া, ০৯ নং ওয়ার্ড কে বিক্রয় করে প্রয়োজনীয় দলিল সম্পাদন পূর্বক তার বরাবরে মালিকানা হস্তান্তর করি। যাহার স্ট্যাম্প নং ১০২০৬৪৩, ১০২০৬৪৪,১০২০৬৪৫ তারিখ-০৬/০৮/২০১৭। পুলিশের অভিযানে জব্দকৃত এফবি সাদিয়া নামের ফিশিং বোটটি আমার বিক্রয়কৃত এফবি সাদিয়াও নই। বরং একটি অর্থলোভী ষড়যন্ত্রকারী মহল প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও জব্দকৃত বোটের মালিক ও মাঝি মাল্লাদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে যোগসাজসে সত্য ঘটনাকে আড়াল করতে আমার বিক্রিত এফবি সাদিয়ার লাইসেন্স কৌশলে ব্যবহার করেছে মাত্র। কেননা বিক্রয়ের পূর্ব থেকে আমার ফিশিং ট্রলারের লাইসেন্সটি অন্যান্য ট্রলার মালিকদের লাইসেন্সের সাথে দিলু নামে এক ব্যক্তির কাছে সংরক্ষিত ছিল। কারন প্রতিবার সাগরে গমণের পূর্বে এই দিলুসহ কয়েক ব্যক্তি বিজিবি ক্যাম্প হতে আমাদের ফিশিংয়ে যাওয়ার অনুমতি এনে দিত। আমার ফিশিং বোটটি বিক্রয়ের পরও মূল লাইসেন্সটি ওই দিলুর নিকট জমা ছিল যা বেশ কয়েকবার খোঁজার পরও সে অদ্যবধি ফেরত দেয়নি এবং বর্তমানেও আমার মূল লাইসেন্সটি তার হাতে রয়েছে।

এছাড়া আমার বিক্রিত এফবি সাদিয়ার লাইসেন্সে উল্লেখিত বোটের পরিমাপ ও ইঞ্জিনের নাম্বারের সাথে পুলিশের জব্দকৃত বোটের পরিমাপ ও ইঞ্জিন নাম্বারের কোন মিল নেই। বাস্তব ঘটনা হচ্ছে, ইয়াবাসহ পুলিশের জব্দকৃত ফিশিং বোটটিকে এফবি সাদিয়া হিসাবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে যেটি আসলে এফবি সাদিয়া নই। এফবি সাদিয়া বর্তমানে কায়ুকখালী খালে তার নিজ মালিকের হেফাজতে বহাল তবিয়তে রয়েছে। যাহা মামলা তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই বাছাই করলে প্রকৃত সত্য ঘটনা বের হয়ে আসবে।

তাই পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার নিকট নিজেকে নির্দোষ দাবী করি এবং প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটন পূর্বক ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে দায়ের করা উক্ত মামলা থেকে রেহাই পেতে আবেদন জানাচ্ছি। পাশাপাশি যুবসমাজ ও জাতি ধ্বংসকারী মাদক তথা ইয়াবা ব্যবসা-পাচারে জড়িত মূলহোতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...