,

‘জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়ার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমুলক অপপ্রচার ও আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করা না হলে আইনী ব্যবস্থা’

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ::

টেকনাফ সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে গত ১লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও পুরষ্কার বিতরণী সভায় স্বাধীনতা বিরোধী কিছু ষড়যন্ত্রকারী এবং কুচক্রীমহলের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ শফিক মিয়া বক্তব্য রাখেন। উক্ত বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। উক্ত কুচক্রীমহলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ দৌল্লাহ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবরাং ইউপির তিন বারের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধারে ২২ বছরের সাধারন সম্পাদক, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ শফিক মিয়া গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একশ্রেনীর কায়েমী স্বার্থবাদী ও কুচক্রীমহল কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তিরা স্বাধীনতা এবং জাতীয় অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। হঠাৎ করে ২০১৭ সাল থেকে সাবরাং ওলামা পরিষদ নাম দিয়ে গুটি কয়েক স্থানীয় কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তি জাতীয় দিবস উদযাপনে বারংবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ পরিষদে অনেক সদস্য তথা আলেম নামধারী ব্যক্তি সরাসরি অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত। ওদের নৈপথ্যে চিহ্নীত কতিপয় ব্যক্তি ইন্ধনও রয়েছে। বিগত ২৬ মার্চ কথিত ওলামা পরিষদ নামের সংগঠন স্বাধীনতা দিবসসহ অন্যান্য জাতীয় দিবস উদযাপনে বাধা দিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় বেহায়াপনা, মদ ও জোয়ার আসর আখ্যায়িত করে গত ১৩ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি প্রদান করেছে। শুধু তাই নয়, ২১ ফেব্রুয়ারীতেও স্কুলে অনুষ্ঠান না করার জন্য নিষেধ করে। অথচ ২৬ মার্চ শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালী, কবিতা, গান, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তব্য, নাটকসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করে থাকে। বিষয়টিকে বেহায়াপনা বলে কথিত ওলামা পরিষদের ব্যানারে কিছু ওলামা কিভাবে স্বারকলিপি দিল তাহা আমার বোধগম্য নই। অথচ সারাদেশে সরকারীভাবে শহীদ দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করে আসছে। কিন্তু সাবরাংয়ে এগুলো করতে গেলে বাধা কেন? শুধু তাই নই স্বাধীনতা দিবসে স্কুলের মাঠে ওয়াজ মাহফিল দিয়ে মাঠটি দখল করে রাখে। ফলে জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারিনি আমরা। গত ১লা বৈশাখে স্কুলের উদ্যোগে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐহিত্য ও সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে মহিষের লড়াই, র‌্যালী, পান্তা-ইলিশ, চাউলের পিঠা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বলিখেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক, একজন এসআইসহ পুলিশ সদস্য, রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উখিয়ার সামশু বলি, থায়ংখালীর ছিদ্দিক বলি ও রামুর দিদার বলিসহ ১৫ জন স্বনামধন্য, নবীন ও প্রবীন বলিসহ হাজার হাজার জনগন অনুষ্টান উপভোগ করেন। অথচ উক্ত অনুষ্ঠানের দুয়েকদিন পূর্ব থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে ১ লা বৈশাখকে ধর্ম বিরোধী আখ্যায়িত করে ওই কিছু ওলামা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। ওরা স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের উত্তরসূরী। ১লা বৈশাখের পূর্বের দিন এক এজেন্ট বৈশাখী উৎসব না করার জন্য শাসিয়েছেন। সে সময় স্কুলের সভাপতি এবং কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মোঃ শফিক মিয়ার প্রদত্ত বক্তব্য নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্ত ছড়িয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অথছ তার বক্তব্য ছিল এই এলাকায় অনেক স্বনামধন্য অভিজ্ঞ আলেম আছেন। যাদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি অনূভুত হয়। কিন্তু ইদানিং কিছু আলেম ওলামা নামধারী ব্যক্তিদের দেখতে পাচ্ছি যে, কথিত ওলামা পরিষদ নাম দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক এবং জাতীয় অনুষ্ঠানে বাধা দিচ্ছে। তারা শুধু একটি এলাকা কেন্দ্রীক তথা এই সাবরাংয়ে বাংলা শিক্ষা বিরোধী হয়ে গেছে। যেখানে অবৈধ নৃত্য নেই, মদ-জুয়া নেই, অথচ সেখানে তাদের উদ্দেশ্যমুলক প্রতিবাদ। এধরনের ব্যক্তিদের আলেম বলতে কষ্ট হয়। চিন্তা চেতনায় এবং তাদের কৃতকর্ম দেখে মনে হয় তারা প্রকৃত আলেম নয়। যারা এসমস্ত দিবস পালন করে এবং করতে উৎসাহিত করে তাদেরকে ‘নাস্তিক’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। তারা অনেকেই স্বাধীনতা বিরোধী এবং রাজাকার পরিবারের লোক। ওই দিন সন্ধ্যার পর জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত ওলামা পরিষদ নামধারী কতিপয় ব্যক্তি সভাপতি মোঃ শফিক মিয়াকে নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় গুটি কয়েক ইয়াবা ব্যবসায়ী দলীয় পরিচয়ে উক্ত পরিষদের সাথে সখ্যতা রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মোঃ শফিক মিয়া একজন নির্ভেজাল, ধর্মপরায়ন ও ইসলামের মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসী সৎ লোক। সকল লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তি। এমন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসময় তার পাশে মোঃ শফিক মিয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে হুঁশিয়ারি করে বলেন, এই কথিত ওলামা পরিষদ এসব উদ্দেশ্যমুলক অপপ্রচার ও আল্টিমেটাম ১৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে ভবিষ্যতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...