,

১ দিনের বাঙ্গালীয়ানা…! নববর্ষ পালনে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

আমান উল্লাহ কবির::

বছর ঘুরে এলো আবারো পহেলা বৈশাখ- ১৪২৫। বিগত বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে দিয়ে সুখ-সমৃদ্ধির প্রত্যাশা নিয়ে জাঁকঝমকভাবে বরণ করা হয় নতুন বছরকে। ‘পয়লা বৈশাখ’ বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। দিনটিকে আমরা সচরাচর ‘নববর্ষ’ নামে চিহ্নিত করে থাকি। ভুলে থাকা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে একদিনের জন্য খাঁটি বাঙ্গালীয়ানা পরিচয় বহনে পান্তা-ইলিশ, পাজামা-পাঞ্জাবী, লাল-সাদা বাসন্তি রঙ্গের শাড়ী ও খোপায় ফুল রেখে এদিন পরিবেশটাকে রঙ্গিন রাখে। গ্রাম কিংবা শহরে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে র‌্যালী ও বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান দিনভর ব্যস্ত। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সারা দেশে বাংলা বছরের প্রথম দিনকে বরণের আনন্দে থাকে মাতোয়ারা।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। উপজেলা চত্বর ও গেইট এলাকায় আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ‘বাঙ্গালীয়ানা’ নাম দিয়ে টেকনাফে বিভিন্ন ঐতিহ্যের ছবি দিয়ে দেওয়ালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১ লা বৈশাখ সকাল ৭ ট ায় মঙ্গল শুভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছে। এতে টেকনাফের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ স্থানীয়রা অংশ গ্রহন করবেন বলে উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হাসান জানিয়েছেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি টেকনাফের ইতিহাসকে সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দেওয়ালিকা ও ভিড়িও চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া সকালে বিরাট মঙ্গল শুভাযাত্রা বের করা হবে। থাকবে পান্তা ভাতসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
‘পয়লা বৈশাখে’ অতীতের সুখ-দুঃখ ভুলে গিয়ে নতুনের আহবানে সাড়া দিয়ে ওঠে। তাই মন সাড়া দেয়, চঞ্চল হয়, নতুনকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি নেয়। প্রাত্যহিক কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে, ঘরবাড়ি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে, পাজামা-পাঞ্জাবী, লাল-সাদা শাড়ী, বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা। নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ সব কিছু মিলে দেশটা যেন হয়ে উঠে উৎসবমুখর। চৈত্রের শেষ ও বৈশাখের প্রথম থেকেই গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয়। এ সময় আকাশ থেকে আগুন ঝরার মতো গরম। এই গরমে ‘বাংলা নববর্ষের’ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘বার্ষিক মেলার’ আয়োজনও একটি। বাংলা দেশের নানা স্থানে বিশেষ করে পয়লা বৈশাখে, বড়-ছোট নানা ‘মেলা’ বসে। স্থানীয় লোকেরাই এসব মেলার আয়োজন করে থাকে। মেলায় বলিখেলা, নাচ, গান, নাগরদোলা প্রভৃতিই বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
বৈশাখ মাস এলে ‘হালখাতা’ এখনও যথারীতি খোলা হয়। এখনও ব্যবসায়ীদের বিপণিগুলো ‘পয়লা বৈশাখে’ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার ও সাজিয়ে তোলে। এই দিনে ব্যবসায় কেন্দ্রগুলোতে বেচাকেনার চেয়ে হিসাব-নিকাশ, আলাপ-আলোচনা ও সামাজিকতার পরিচয় পাওয়া যায় বেশী। ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাজ-কারবারের লেনদেন, বকেয়া, উসুল-আদায় সব কিছুর হিসাব-নিকাশ লিখে রাখার ব্যবস্থা করা হয় এই পয়লা বৈশাখে।
এতসব আয়োজন শুধুমাত্র পয়লা বৈশাখকে ঘিরে করা হয়। একদিনের বাঙ্গালীয়ানা সাজতে কত কিছুর আয়োজন। চারদিকে ধুমধাম ও খুশিতে মাতোয়ারা। রাত পোহালেই সেই বাঙ্গালীয়ানা আমেজ মুহুর্তেই বিদেশী সংস্কৃতি, রেওয়াজে রূপ নেয়। ভুলে যাই আমরা বাঙ্গালী। অথচ উৎসব কেন্দ্রীক আমরা একদিনের জন্য হয়ে যায় বাঙ্গালীয়ানা…………!

মতামত...