,

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: আয়ের উৎস ছাড়াই অনেকেই কালো টাকার মালিক : ইয়াবার টাকা লেনদেনে ১৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান!

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ ::

আয়ের দৃশ্যমান উৎস ছাড়াই টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন ক্ষুদে পেশাজীবি থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতির কাতারে স্থান দখল করে নিয়েছে। রিক্সাওয়ালা, রং মিস্ত্রি, চা-বিক্রেতা, গ্যারেজ মিস্ত্রি, ড্রাইভার, নৌকার মাঝি ও পান ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ইয়াবা (মাদক) বাণিজ্যে ওরা আজ সম্রাটে পরিনত হয়েছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব তথ্য বের হয়ে আসছে।

তথ্য মতে, টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, পৌরসভা, সাবরাং ও সেন্টমার্টিনদ্বীপের মাদকদ্রব্য তথা তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও নব্য ইয়াবার শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এখন কালোটাকার পাহাড়ে পরিনত হয়েছে। টাকা সাদা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেনামে স্বনামের মালিক বনে গেছেন। দুর্নীতি দমন বিভাগ এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি এ অর্থের মালিক বনে যায়। অতীতে এসব অর্থ বেশীরভাগ লেনদেন হতো বেসরকারী ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স ও বিকাশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। সরকার এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীর প্রেক্ষিতে এ নিয়ম ত্যাগ করে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন শীর্ষ বৈধ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইয়াবা অর্থ লেনদেন করে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সীমান্তের টেকনাফ পৌর শহর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও সাবরাং বাজারের শীর্ষ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ন্যায় প্রতি হাজারে ১৮ টাকা মুনাফার মাধ্যমে ইয়াবার আয়ের অর্থ মাদক ব্যবসায়ীরা লেনদেন করে আসছে। বিশেষ করে এর সাথে বেশীর ভাগ জড়িত শীর্ষ মোদির দোকান, রড সিমেন্টর দোকান, টাইলস ও ঔষধ প্রতিষ্ঠান সমূহ।

তথ্যানুযায়ী টেকনাফ সীমান্তে প্রায় ১৫টি শীর্ষ বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইয়াবার কালো টাকা বিকাশ প্রতিষ্ঠানের ন্যায় লব্দ অর্থ লেনদেন করে আসছে। এদের মধ্যে টেকনাফ পৌর শহরে ১২জন শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এর সাথে জড়িত বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরের ইয়াবার পাচারের লব্দ অর্থ টেকনাফের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা যে সব প্রতিষ্ঠানে মালামাল ক্রয় করে সে সব প্রতিষ্ঠানের দোকানে মোবাইল ফোনের ঐকালোটাকা টেকনাফের ব্যবসায়ীর মাধ্যমে হাতবদল হয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছে নিরাপদে চলে আসছে। আর ওই দোকানদাররা প্রতি হাজারে ১৮ টাকা বিকাশ প্রতিষ্ঠানের ন্যায় মুনাফা নিচ্ছে। এছাড়াও ইয়াবার লব্দ অর্থ বিকাশ ও হুন্ডি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলে আসে। এসব লব্দের কালো বাংলা অর্থ মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক সময় বাংলা টাকা সংকট দেখা দেয়।
টেকনাফ পৌর শহরসহ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বেঙের ছাতার ন্যায় বিকাশ ও হুন্ডি প্রতিষ্ঠান গজে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বেসরকারী ব্যাংক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর মধ্যে অর্থের লেনদেন হয় চোখে পড়ার মতো। আইন শৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যার ফলে এ ২টি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার কাংখিত রেমিট্যান্স পাচ্ছেনা।

এদিকে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা ভবিষ্যতে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে কালোটাকা সাদা করতে তৎপর এবং রাজনৈতিক দলের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসা ও পাচার অব্যাহত রেখেছে।

মতামত...