,

টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত বেপরোয়া : ফের যুবক অপহরণ

টেকনাফ প্রতিনিধি॥

টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের এক মহিলা সোর্সকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০ টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সামনে ডাকাত আব্দুল হাকিমের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলার সময় নাইট্যংপাড়া এলাকার মোহাম্মদ রফিকের স্ত্রী আনজুমা (৩২) কে আটক করে স্থানীয় জনসাধারণ। সে মহেশখালী থানার কুতুবজুম এলাকা থেকে এসে টেকনাফের নুর আহম্মদ ঘোনা এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে।
জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র আরও ১০/১৫ জন ডাকাত নাইট্যং পাড়া গ্রামের ইসমাইলের বাড়ীর সামনে থেকে জহির আহমদের ছেলে জালাল আহম্মদ (২২) কে অপহরণ করে। এর প্রতিকার পেতে স্থানীয়রা টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জড়ো হয়। এসময় আটক আনজুমানও ভীড় ঠেলে অংশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে হাকিম ডাকাতকে বিস্তারিত বলার সময় বিষয়টি স্থানীয়রা আঁচ করতে পেরে তাকে আটক করে। পরে আটককৃত মহিলা আনজুমানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা। এব্যাপারে পিতা জহির আহমদ বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা (নং- ১৫) দায়ের করেছে।
এর আগেও গত ৩১ জানুয়ারী রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম ও তার সশস্ত্র লোকজন বাড়িতে ঢুকে নুরুল আবছার নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে তার আস্তানায় নিয়ে যায়। এরপর ডাকাত দল তাকে তালা ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। পরের দিন আস্থানা থেকে কৌশলে পালিয়ে আসে কিশোর নুরুল আবছার। গত এক বছর আগে নুরুল আবছারের বড় ভাই তোফাইলকেও অপহরণ করে নিয়ে গুম করে এই হাকিম ডাকাত। অদ্যবধি তার কোন খোঁজ নেই।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হাকিম ডাকাতের সোর্স সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক মহিলাকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অপহৃতের পিতা জহির বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফে সাধারন মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম এই রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম। এই ডাকাত মিয়ানমারের মংডু বড় ছড়া এলাকার জানে আলমের ছেলে। মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ এসব যেন তার কাছে ঠুনকো বিষয়।
টেকনাফের গহীন পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে এই রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম। সেখান থেকেই তার বাহিনীর লোকজন দিয়ে এসব মানুষ হত্যা, মায়ানমার থেকে বিশাল আকারের ইয়াবার চালান এনে তার আস্থাশীলদের রসদ যোগান দেন। তার রয়েছে বিশাল অস্ত্রের ভা-ার। দেশী আর বিদেশী এসব অস্ত্রের যোগান কারা দেয় এটিও এখন অনেকের কাছে প্রশ্ন।
তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজনের বেশী মামলা রয়েছে। বছরখানেক আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সদর ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে বাড়ীতে ঢুকে হত্যাসহ একাধিক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে বিজিবি, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনী হাকিম ডাকাতের আস্তানায় একাধিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সহযোগীকে অস্ত্রসহ আটক করে কারাগারে পাঠালেও এ দূর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম এখনো অধরা রয়েছে।

 

মতামত...