,

গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা ও করণীয় : পর্ব-১

মো: আবদুল গফুর::

দেশের স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ইউনিয়ন পরিষদ।

আর এই ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা ও গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভুমিকা নিয়ে আমি নিজের কিছু বিশ্লেষণকে পুঁজি করে  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিছু পরামর্শ সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

বাংলাদেশের প্রায় ৮o% লোকের বসবাস গ্রামে। আর এই গ্রাম বাংলার সমাজ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গ্রামে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার জন্য গড়ে উঠেছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা  তথা  ইউনিয়ন পরিষদ। বর্তমানে দেশের প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বলে আমি মনে করি।
বিভিন্ন ধাপে এই সমস্যা গুলোকে কয়েকটি পর্বে আপানাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

সীমাহীন দূর্নীতি:

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সেবার জন্য সরকার জেলা, উপজেলা এবং প্রত্যেক ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার জনগণের সুবিধার জন্য বিভিন্ন সেবামুলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেও জনপ্রতিনিধিদের অসচেতনতাকে পুঁজি করে কিছু সরকারি চাকরিরত আমলাদের সীমাহীন দুর্নীতি ও যথাযথ জবাবদিহীতার অভাবে বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে তথা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাঙ্খিত উন্নয়ন দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জনপ্রতিনিধি জানেন না সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর কোনটার কি কাজ এবং গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কত টাকা ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামীন মানুষদের জন্য বরাদ্ধ  দেয়।

তাই শিগগিরই জনপ্রতিনিধিদেরকে এই ব্যাপারে  সচেতনতা বৃদ্ধির করতে হবে। সাথে আমলাদের সীমাহীন দূর্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ, আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় সাধন করতে হবে। না হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাঙ্খিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

এতে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অনেক দূর্বল হয়ে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে দেশের সুশাসনের উপর। তাই স্থানীয় সরকার তথা সব ইউনিয়ন পরিষদে সবার আগে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে। সরকারী সব বরাদ্ধ বৈষম্যহীন ভাবে এলাকার মানুষদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্ষমতা হ্রাসঃ

দিন দিন আমরা ইউনিয়ন পরিষদের তার অভ্যান্তরীণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার চিত্র দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আমলারাই বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে। এই আমলারা পুরো  রাষ্ট্রকে গিলে খাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামান্য পূঁজি গুলো খাওয়া শুরু করেছে।

দেশের জনপ্রতিনিধিদের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ বিচার সালিশের পাশাপাশি মুরগী চুরির বিচার পর্যন্তও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে চলে যাচ্ছে।  আর এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অন্যায় ভাবে রাশি রাশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর তাতে সাধারণ জনগণ বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ গুলো দিন দিন তাদের কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে।

এই ব্যাপারে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই এই ইউনিয়ন পরিষদ সরকার শাসন কাঠামোর বিলুপ্তি ঘটবে। আর বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের  জনপ্রতিনিধিদের তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে  সতেচন করতে হবে।

লেখক: মো: আবদুল গফুর
টেকনাফ বাহারছড়ার ইউনিয়ন।
(বর্তমানে ইউরোপ থেকে)।

One comment

  1. Excellent News

মতামত...