,

প্রাকৃতিকভাবে ফুটানো হচ্ছে কাছিমের বাচ্চা

আরফাতুল মজিদ, কক্সবাজার []455

কক্সবাজার উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে সামুদ্রিক কাছিমের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো হচ্ছে। পরিবেশ বন্ধু এই কাছিম রক্ষা করতে সাগরের তীরের পাশে অর্ধশতাধিক স্থানান্তরিত ডিম ফুটানোর স্থান (হ্যাচারী) তৈরি করা হয়েছে। শীত মৌসুমে কাছিমের ডিম সংগ্রহ করে এসব হ্যাচারীতে ডিম ফুটানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন ‘মেরিনলাইফ এলায়েন্স’ নামের একটি গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা।

ইতিমধ্যে টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বালিয়াড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রায় কয়েক হাজার কাছিমের ডিম সংরক্ষণে রয়েছে। বাচ্চা ফুটানোর পর পরেই এসব কাছিম সাগরে অবমুক্ত করে দেয়া হবে। মানুষের অবাদ চলাফেরা ও কুকুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে কাছিমের ডিম পাড়া থেকে বাচ্চা ফুটানো পর্যন্ত নজরদারী রাখছেন গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা ‘মেরিনলাইফ এলায়েন্স’ এর কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা।

মেরিনলাইফ এলায়েন্স এর গবেষণা সহকারী মোবারক হোসেন জানান, সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার উপযুক্ত সময় হলো শীত মৌসুম। মৌসুমের শুরুতে প্রজনন কাছিম গুলো কূলে ফিরে আসে ডিম পাড়ার জন্য। এক্ষেত্রে কাছিমের ডিম পাড়ার নিরাপদ স্থান হলো জনশূণ্য এলাকা। যেখানে মানুষের আনাগোনা ও কুকুরের বিচরণ নেই এসব জায়গায় ডিম পাড়ে সামুদ্রিক কাছিম। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ডিম পাড়তে কূলে উঠে কাছিম।

গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা ‘মেরিনলাইফ এলায়েন্স’ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম জুয়েল জানান, কূলে এসে একটি কাছিম ডিম পাড়ার সময় নেন দেড় থেকে দু’ঘন্টা। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি কাছিম প্রতিবারে ৬০ থেকে ১৭২ টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ডিম দেয়ার পর আবার সাগরে ফিরে যায়। তিনি জানান, সাগরের তীরের বালিয়াডিতে গর্ত করে ডিম পাড়ে কাছিম। কিন্তু এসব ডিম মানুষের অবাদ চলাচলে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি অনেকেই কাছিমের ডিম চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া কুকুরের হাত থেকেও রক্ষা করা যায় না। সব মিলিয়ে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে পরিবেশ বন্ধু সামুদ্রিক কাছিম। তাই বনবিভাগের সহযোগিতায় গবেষণার মাধ্যমে কাছিমের ডিম সংগ্রহ করে বালিয়াডির একাংশে বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে (হ্যাচারী তৈরি) সংরক্ষণে রাখা হচ্ছে। ওখানে বালুর এক থেকে দেড় ফুট নিচে ডিম গুলো রাখা হয়। বালুর নিচে ৫৫ থেকে ৬৫ দিন রাখার পর প্রাকৃতিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো হয়। এর পর সাগরে অবমুক্ত করা হয়।

তিনি জানান, টেকনাফের শামলাপুর, শাহপরীরদ্বীপ, সেন্টমার্টিনের কোনাপাড়া, শিলবনিয়ার গুলা, উখিয়ার মনখালী থেকে সোনার পাড়া, রামুর পেঁচারদ্বীপ, সোনাদিয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বালিয়াড়িতে অর্ধশতাধিক সামুদ্রিক কাছিমের স্থানান্তরিত ডিম ফুটানোর স্থান রয়েছে। বর্তমানে তৈরিকৃত এসব হ্যাচারীতে দেড় শতাধিক কাছিমের প্রায় ১ হাজার আটশ ডিম বাচ্চা ফুটানোর অপেক্ষায় রয়েছে। সামনের শীত মৌসুমে আরও অনেক কাছিম কূলে এসে ডিম পাড়ার সম্ভাবনার কথা জানালেন নির্বাহী পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম জুয়েল। তিনি বলেন, প্রতিটি হ্যাচারীর আশপাশে তাদের কর্মচারী রয়েছে। রাতের আঁধারে তারা সাগরের বালিয়াড়িতে পাহারা বসায়। কখন কাছিম এসে ডিম পাড়ে। আর ডিম পাড়লে তা সংগ্রহ করে হ্যাচারীতে রাখা হয়। তখন ওখান থেকেই প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চা ফুটে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*