,

টেকনাফ উপজেলায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের রাজনীতি : প্রথম ধাপে ৫ টির নির্বাচন

 নিজস্ব প্রতিবেদক, আলো নিউজ২৪ ডটকম []up ec
দেশের সর্বদক্ষিন সীমান্ত টেকনাফ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ৬ টি ইউনিয়নের ৫ টির নির্বাচন প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হবে

বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

ইউনিয়নগুলো হচ্চে হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও সেন্টমার্টিন। তম্মধ্যে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একসাথে হচ্ছেনা বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা গেছে, আগামী মার্চ মাসে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপে নির্বাচন করা হবে। প্রথম ধাপে যে সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে সেগুলির একটা তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা কমিশন সভায় অনুমোদনের পর এব্যাপারে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে।

এদিকে ইতিমধ্যে মাঠে ময়দানে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জমে উঠছে তৃণমূলের রাজনীতি। নৌকা ও ধানের শীষ নিয়ে ইউপি নির্বাচনে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বলে খ্যাত বিএনপি। দুই শিবিরেই চলছে জোর প্রস্তুতি। দলীয় একক চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে ইতোমধ্যে মাঠ জরিপ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে, ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলে প্রার্থী বাছাইয়ে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন পাঠিয়েছে বিএনপি। দেশের প্রধান এই দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলেও দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি পর্ব চলছে। প্রচারনায় পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের। আবার স্বতন্ত্র ও জামায়াতের প্রার্থীরা বিভিন্ন চিন্তা চেতনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ইউনিয়ন প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রে ধর্না দিচ্ছে। তবে প্রত্যেক ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রার্থীরা দলীয় হাই কমান্ডে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।।
নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ এর ঘোষনা অনুযায়ী আগামী মার্চের শেষের সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারী মাসে নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা করা হবে। ফলে এ নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের রাজনীতি জমে উঠেছে। শো-ডাউনসহ বিভিন্নভাবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিতে বড় দুই দলের সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। দলীয় সমর্থন পেতে ধর্না দিচ্ছেন দল দুটির শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে। তবে ইউপি নির্বাচনেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে শঙ্কায় উভয় দলই। দল দুটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা অপকটেই স্বীকার করছেন, এত ইউনিয়ন পরিষদে দলের একক প্রার্থী বাছাই করা বেশ কঠিনই হবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে তাঁদের চেষ্টার কোন ক্রুটি থাকবে না।
টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম—
টেকনাফ উপজেলায় এবারের ইউপি নির্বাচনে ৬টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে অন্তত ২০০জন বিভিন্ন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা ছাড়া ও বর্তমান, সাবেক, স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদন্ধীতার জন্য মাঠে প্রচার প্রচারনায় প্রায় সক্রিয় রয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচন হয় অনেক ব্যয় বহুল। যদি ও নির্বাচন আচরনবিধিতে ব্যয়ের পরিমান নির্ধারন করা তাকে কিন্তু এ উপজেলায় ভিন্ন। প্রচুর পরিমানে টাকার ছড়াছড়িতে নির্বাচনী হিসেব নিকেশ অনেক সময় পাল্টে যায়। আবার এ বছর নির্বাচনে যোগ হল ইয়াবা ও মানবপাচারের টাকার হিসাব। ইয়াবার গরম টাকায় এবার অনেকে প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নেও দেখেছে। এখন পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার যত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম শুনা যাচ্ছে—
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন : বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, গতবারের প্রার্থী বিএনপি নেতা জোনায়েদ আলী চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগনেতা ফরিদুল আলম জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগনেতা নুরুল হোসাইন, এডভোকেট মঈনুল হোসেন চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি নেতা জালাল মেম্বার, আওয়ামীলীগনেতা হারুন সিকদার ও আলমগীর চৌধুরী প্রমুখ।
হ্নীলা ইউনিয়ন : বর্তমান চেয়ারম্যান পুত্র এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার, তরুন আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জাফর আলম মেম্বার, এডভোকেট সলিমুল মোস্তফা, হ্নীলা বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক জহির আহমদ, কামাল উদ্দিন, সরওয়ার কামাল সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান  জালাল উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট রশিদুল আমিন চৌধুরী প্রমুখ।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন : বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান পুত্র মোহাম্মদ শাহজাহান,  আওয়ামীলীগনেতা হামজালাল মেম্বার, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ছোট ভাই জিয়াউর রহমান জিয়া, মরহুম মাষ্টার শাকের আহমদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মাওঃ আবদুল হক  প্রমুখ।
সাবরাং ইউনিয়ন : বর্তমান চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান, সমাজসেবক হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা ইসমাইল মেম্বার, প্রবাসী ইসমাইল, সোলতান মেম্বার, জাহেদ, ব্যবসায়ী হাশেম মেম্বার, জাতীয়পার্টি নেতা আয়াজ মাহমুদ রনি, আওয়ামীলীগনেতা সোনা আলী, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক নুর হোসেন, বিএনপি নেতা রাশেদুল করিম মার্কিন প্রমুখ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন : বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান মাওঃ ফিরোজ আহমদ খাঁন,  ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাংবাদিক ছিদ্দিকুর রহমান, নুর আহমদ মেম্বার, মৌলভী আবদুর রহমান প্রমুখ।
বাহারছড়া ইউনিয়ন : বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ, মাওলানা রফিক উল্লাহ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মৌলভী আজিজ উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোক্তার আহমদ আমির মেম্বার, আওয়ামীলীগনেতা সাইফুল্লাহ কোম্পানী, রফিক কোম্পানী, আবদুর রহমান বাহার, প্রবাসী মোহাম্মদ সিকান্দর, হেলাল উদ্দিন মেম্বার ও মাহবুব সওদাগর প্রমুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনেও মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থিতা। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে ডজন ডজন সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে থাকায় তাদের মধ্যে থেকে একক দলীয় প্রার্থী বাছাই খুবই কঠিন হবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
তবে রাজনৈতিক নেতাদের মতে, সব ইউপিতে একক প্রার্থী নির্বাচন করা কঠিন হলেও তারা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। কোন ইউপিতে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিই নয়, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কক্সবাজার জেলার সকল দলের শীর্ষ নেতারা একক চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। দুই জোটের ব্যানারে নির্বাচনের সম্ভাবনা না থাকায় প্রধান দুই জোটে থাকা শরীক দলগুলোও এককভাবে ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সুত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*