,

বিদ্যুৎ না থাকায় যুগ যুগ ধরে অন্ধকারে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ

আমান উল্লাহ আমান[]বিদ্যুৎ ফাইল ছবি

সেন্টমার্টিন আধুনিক একটি পর্যটন স্পট। মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রবাল দ্বীপ খ্যাত এই দ্বীপে পর্যটন মৌসুমে লক্ষ লক্ষ দেশ বিদেশের পর্যটক ভ্রমনে যাচ্ছেন। স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন প্রায় ৯ হাজার মানুষ। কিন্তু বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে এখনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত দ্বীপের মানুষগুলো। যুগ যুগ ধরে রয়েছে অন্ধকারে।
জানা যায়, সেন্টমার্টিন একটি ছোট দ্বীপ। যা বঙ্গোপসাগরের উওর-পূর্ব অংশে এবং কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আরবের কিছু নাবিক ২৫০ বৎসর পূর্বে এটি আবিস্কার করেন। তারা এটিকে “জাজিরা” নামকরণ করেন। ১৮৯২ সালে ১৫ জন মানুষ এই দ্বীপে বসতি শুরু করেন। বৃটিশের ওই সময়কালে এটিকে পুনরায় ‘সেন্টমার্টিন’ দ্বীপ নামে নামকরণ করা হয়। দ্বীপটির স্থানীয় নাম আবার নারিকেল জিনজিরা। এর আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০০৬ সালের হিসেব অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৭হাজার এবং বর্তমানে এ সংখ্যা ৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৮৭৫ জন। সেন্টমার্টিনের সংযোজিত অংশ ছেঁড়াদিয়া। প্রধান পেশা মাছ ধরা হলেও বতর্মানে পর্যটনকে কেন্দ্র করে আরো নানা পেশার সাথে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে এই দ্বীপের বাসিন্দারা। কিন্তু আধুনিকতার এই বিশ্বে এখনো সেন্টমার্টিনদ্বীপটি রয়েছে গেছে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন। স্থানীয়ভাবে জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও শুধু পর্যটকবাহী কটেজ কেন্দ্রিক। সৌর বিদ্যুতের দেখা মিললেও দরিদ্রতার দরুণ অধিকাংশ মানুষ তার বাইরে রয়ে গেছে। দ্বীপে এক সময় সরকারি উদ্যোগে একটি অস্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও ১৭ বছর ধরে তা বিকল।
সুত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড় হারিকেনের আঘাতে এই বিদ্যুৎ জেনারেটরটি বিকল হয়ে যায়। সেই থেকে অন্ধকারে রয়েছে দ্বীপবাসী। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ আধুনিক সব প্রযুক্তি সুবিধা ও ব্যবহার থেকে বঞ্চিত এখানকার মানুষ। এমনকি মোবাইল চার্জ নিয়েও মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। টাকার বিনিময়ে মোবাইল চার্জ করা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ জেনারেটর ভোল্টেজ না থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় মোবাইল। ফলে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় তাদের।
স্থানীয় সংবাদকর্মী কেফায়েত উল্লাহ খান বলেন, নেতৃত্বের কারণে আমাদের এ অবস্থা। সবাই যে যার মতো ধান্দায় থাকেন। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কারো চিন্তা নাই। পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কাঙ্খিত শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দ্বীপের মানুষ। অযতœ অবহেলা গোয়াল ঘরে পরিণত হয়েছে দ্বীপের একমাত্র হাসপাতালটি। বিদ্যুৎ না থাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছেনা সেন্টমার্টিনে।
সেন্টমার্টিনের জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহন করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি সূদৃষ্টি কামনা করছেন দ্বীপবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*