,

সবুজের মাঝে মরনের হাতছানি

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা []Tamak photo 03
বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজের মাঠ। দেখে সবার মনে হয় সবুজের বুকে ভর দিয়ে উঁকি মারছে অপরুপ বাংলা। চোখে দেখা আর বাস্তবের মাঝে কত ফারাক তারই উজ্জ্বল প্রমাণ মিলে লামা উপজেলার ফসলের মাঠে দখল করে নেয়া  তামাক চাষ দেখে। এ যেন সবুজের মাঝে মরনের হাতছানি।
বিগত বছরের ন্যায় আবারো বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার একর ফসলের জমিতে তামাক চাষের আয়োজনে ব্যস্ত টোবাকো কোম্পানীরা। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ ধান ও ফসলের জমি দখলে নিয়েছে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের প্রধান কারণ তামাক চাষ। বান্দরবানের পার্বত্য জেলার লামা উপজেলা বর্তমানে তামাক চাষের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে তামাক চাষ হয়ে আসছে লামা উপজেলায়।
জানা যায়, আসন্ন মৌসুমে কোম্পানি গুলো সর্বমোট ১৩ হাজার ৩শত একর জমিতে তামাক চাষ আবাদ করেছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবকো কোঃ লিমিটেড ৩ হাজার একর, ঢাকা ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড ৪ হাজার ৫ শত একর, আবুল খায়ের ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড ২ হাজার ৫ শত একর, আলফা ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড ৩ শত একর, সমিতি ট্যোবাকো ১ শত, নিউ.এজ ট্যোবাকো কোঃ লিমিটেড ৩ শত একর ও ব্যাক্তি কেন্দ্রীক নিজ উদ্যোগে ২ হাজার ৬ শত একর জমিতে তামাক চাষের আবাদ করেছে চাষীরা।
লামা পৌর এলাকার তামাক চাষী আবুল মিয়া, জমির উদ্দিন, জাফর আলী, কেরামত আলী, চিংহলামং মার্মা, চংক্রাত মুরুং সহ অনেকে বলেন, কৃষি অফিসের সরকারি নিজস্ব জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন লোক দেখানো বিরোধীতা করলেও তাদের অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার কারণে চাষীরা তামাক চাষের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। বেপরোয়া তামাক চাষের ফলে পরিবেশ ও সমাজের নানা ক্ষতি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি ও নেশাগ্রস্থতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সরকারি জমি, নদীর দু’পাড় ও বন বিভাগের রিজার্ভ এলাকায় কিভাবে তামাক চাষ আবাদ হয় তা কারো বোধগম্য নয়।
লামা উপজেলা পরিবেশ রক্ষা পরিষদের সাঃ সম্পাদক মোঃ তৈয়ব আলী জানান, সমগ্র উপজেলা ঘুরে দেখা যায় এক, দুই ও তিন ফসলি জমি সহ সরকারী রিজার্ভ, নদীর দু’পার তামাক চাষের দখলে। সরকার কর্তৃক অত্র উপজেলাকে পর্যটন জোন ঘোষনা করা হলেও তামাক জোন বললে কোন অংশে ভূল হবে না।
মরণ চাষ তামাক নিয়ে লামা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রুস্তম আলীর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, যেভাবে তামাক চাষের আবাদ বাড়ছে তা যথারীতি অত্র জনপদের জন্য হুমকি সরুপ। ধান ও শস্য চাষে কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে কৃষি অফিস কর্তৃক স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য সহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কোম্পানী গুলো তামাকের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন সহ জবাবদিহিতা করতে অনিহা প্রকাশ করে। সরকারী সঠিক নির্দেশনা পেলে তামাক কোম্পানীদের নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হবে।
তামাক চাষে পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানান ক্ষতির দিক চিন্তা করে, উর্ধ্বতন প্রশাসন আসলেই কি তামাক চাষ বন্ধ করবে ? অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে চাষের জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। সহনীয় পর্যায়ে তামাক চাষ কমিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের আন্তরিকতা কামনা করছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*