,

ফিরে দেখা টেকনাফ- ২০১৫ ; মাদক-মানবপাচার প্রতিরোধে সফলতা ও ব্যর্থতা

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ []      ফিরে দেখা
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে টেকনাফ উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ মাদক আর মানব পাচার নিয়ে সারাদেশে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় এই উপজেলার মানুষ হয়েছে অনেক দূর্নামের অংশীদার। এই দুর্নামের কিছু অংশ মুছে দিয়ে বিদায় নিচ্ছে ২০১৫ সাল। আলোচনার মধ্যে রয়েছে, মাদক ও মানব পাচার নিয়ে যে তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে, যারা এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত প্রশাসন সেই তালিকা প্রস্তুত করতে গিয়ে দোষীদের পাশাপাশি নিরাপরাধ ও মৃত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আবার অনেক চিহ্নিত ব্যবসায়ী এ তালিকা থেকে রয়ে গেছে ধরা ছোয়াঁর বাইরে। এই পর্যটন নগরীর মানুষ যখন দিনের পর দিন  মাদক আর মানব পাচার নিয়ে দুর্নাম আর বদনামের আলোচনায় আসে, ঠিক তখনি ২০১৫ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে বিজিবি-পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এই মানব পাচার ও মাদক প্রতিরোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ হাতে নেয়। এই কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেও প্রশাসনের চোখকে ফাাঁকি দিয়ে ২০১৫ সালে পাচার হয়েছে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা ও ইয়াবা ব্যবসা, জমি সংক্রান্ত ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হয়েছে প্রায়  ৬জন। আবার খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে রোহিঙ্গারা।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, চলতি বছরে মানবপাচার ও মাদকের তালিকা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বানিজ্যে জড়িত রয়েছে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, এলাকার প্রশাসনের লোক নামধারী কিছু চিহ্নিত দালাল। মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়েছে নিরাপরাধ মানুষদেরকেও অন্যদিকে অপরাধীদের আড়াল করতে সাহায্য করেছে কিছু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি সদস্যরা  মাদক ও মরণ নেশা ইয়াবা প্রতিরোধে সাড়াশি অভিযান চালায়। সেই অভিযানের সফলতা অর্জন করতে গিয়ে বিজিবির হাতে আটক হয় ৪৬ লক্ষ ইয়াবা, ৫১ হাজার বিদেশী বিভিন্ন প্রকার মদ ও বিয়ার। এসমস্ত মাদকদ্রব্যের সাথে জড়িত আটক হয় ২৭৫ জন এবং মামলার সংখ্যা ১৬৫৫ টি, উদ্ধার করা হয় ১০টি বিভিন্ন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র, পলাতক আসামী প্রায় ৬০ জন। অন্যদিকে মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জওয়ানরা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৬ জন দালালকে আটক করে। এসময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অবৈধ পথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যেতে আসা ৯০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে। দালালদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২৫টি। এছাড়া বিজিবি সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় মিয়ানমারের জেলে থাকা সাড়ে ৭’শ বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত আনা হয়েছে। আবার অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে মিয়ানমারের ৩ হাজার ২’শ নাগরিককে আটক করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে ২০১৫ সালে মরণ নেশা ইয়াবা আটকের সফলতা অর্জন করে টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আবু জার আল জাহিদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সমগ্র বিজিবির পক্ষ থেকে সেরা পদকে ভূষিত হয়।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান খন্দকার জানান, মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে সরকার যখন কঠোর পদক্ষেপ হাতে নেয় ঠিক তখনি এ থানায় আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের সেই কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করি। মানব পাচার প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মানব পাচারের ৪ জন চিহ্নিত গডফাদার নিহত হয়। মানব পাচারে জড়িতদের চিহ্নিত করে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রাতদিন পরিশ্রম করে ২০১৫ সালের জানুয়ারী থেকে এপর্যন্ত ২’শ জন দালালকে আটক করা হয়। এছাড়া ২০১৫ সালের শুরু থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ ইয়াবা আটক করা হয় এবং জড়িতদের আটক করা হয়। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*