,

থার্টি ফাস্ট নাইট’ উদযাপনে সেন্টমার্টিনে পর্যটকের ভীড়

আমান উল্লাহ আমান[] বছরের শেষ সুর্যাস্থ ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এবং থার্টি ফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ঢল নেমেছে। অপরদিকে ওইরাতকে উদযাপনে প্রস্তুত সেন্টমার্টিন বা জিনজিরা দ্বীপ। ইংরেজী নববর্ষকে সেলিব্রেট করতে সেন্টমার্টিন সৈকতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। teknaf pic 29.12.2015 (st-2)
বিশেষ করে এবছর কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় পর্যটক সমাগম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। এ উপলক্ষে দ্বীপের আবাসিক হোটেলগুলো নানান ভাবে সাজানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যে সকল হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। প্রতিবারের মতো এবারো বছরের শেষ দিনকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের জন্য বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন দ্বীপবাসীরা। আর এর জন্য পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এদিকে টেকনাফ-সেন্টমাটিন দ্বীপে পর্যটকবাহী কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারী ডাইন এন্ড ক্রুজ, এলসিটি কুতুবদিয়া, সী ট্রাক, গ্রীনলাইনসহ কয়েকটি জাহাজ চলাচল করে থাকে। এছাড়াও প্রায় অর্ধশতাধিক ইঞ্চিন চালিত বোট সেন্টমার্টিনে চলাচল করে। ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে পর্যটকবাহী জাহাজ গ্রীন লাইনস্থ দমদমিয়া টিকেট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের প্রচুর ভীড়। কেউ কেউ টিকেট না পেয়ে বিষন্ন মনে ফিরে যেতে দেখা গেছে। এই ভরা পর্যটন মৌসুমে প্রায় জাহাজগুলো ধারন ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে থাকে। মাঝে মধ্যে প্রশাসন ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করলেও প্রায় সময় এর তোয়াক্কা করেনা জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যেই সেন্টমার্টিনসহ পর্যটন স্পটের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ সমুহের সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং হতে শুরু করেছে। দ্বীপে প্রায় ছোট-বড় ৫০টি হোটেল, কটেজ, গেস্টহাউজ রয়েছে। তম্মধ্যে, ব্লু-মেরিন রিসোর্ট, শেনসোর্ট রিসোর্ট, সানসেট ভিউ, ব্লু সী স্টার রিসোর্ট, সী-ইন, অবকাশ রিসোর্ট, সী টিভি রিসোর্ট, কোরাল ভিউ, কিং শোর্ট রিসোর্ট, প্রবাল, রোকসানা রিসোর্ট, ডাকবাংলো, লাইট হাউস রিসোর্ট, স্বপ্ন বিলাস ও লেখক হুমায়ুনের সমুদ্র বিলাস অন্যতম।
এতে সকল প্রকার অঘটন এড়াতে নিরাপত্তাসহ মাদকের যত্রতত্র ব্যবহার রোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ। দ্বীপের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো তাদের নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার করেছে।teknaf pic 26.12.2015 (st-1)
হোটেল সানসেট ভিউ এর স্বত্তাধিকারী হাফেজ অছিম উদ্দিন জানান, পর্যটক মৌসুম থাকায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রচুর পর্যটক সমাগম রয়েছে। অনেকে স্বপরিবারে কয়েকদিনের জন্য দ্বীপে রয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে দ্বীপের প্রায় হোটেল, মোটেল, কটেজ ও গেস্ট হাউজগুলো অগ্রিম বুকিংসহ পর্যটকে ভরপুর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে সেন্টমার্টিনে কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। দ্বীপের হোটেল-রেস্তোরা, রাস্তাঘাট ও বিপনী কেন্দ্রে দেখা দেয় প্রচন্ড ভীড়। প্রতিবছরের মত এবারও ইংরেজী নববর্ষকে সেলিব্রেট করতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিন সৈকতে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ আশা করা হচ্ছে। ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ পালন করতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে স্ব-পরিবার, বন্ধু-বান্ধব আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিনের হোটেল ও গেস্ট হাউস আগাম বুকিং নিয়েছে।
পর্যটকদের বিনোদন সুবিধার জন্য সেন্টমার্টিনে আধুনিক কিছু হোটেল মোটেল ও কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় অধিকাংশ বাসিন্দারা পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এখানকার গাইড, ভ্যান চালক, নারিকেল (ডাব) বিক্রেতা, মৌসুমী শুটকি ব্যবসায়ীরা ও বিশাল আয়তনের ছেঁড়াদ্বীপ যাতায়াতের ইঞ্চিন চালিত বোট চালকরা এখন রয়েছে বেশ তুঙ্গে। অপরদিকে, পর্যটকদের জন্য দ্বীপে প্রচুর মাছের চাহিদা থাকায় জেলেরা সাগর থেকে মাছ শিকার করে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
দ্বীপের অন্যতম আকর্ষনের মধ্যে ভ্যানগাড়ী করে যাত্রা অন্যতম। একটি ভ্যানগাড়ীতে করে ৫/৬ জন একসাথে ঘুরতে পারে। ফলে ভ্যানগাড়ী চালকরাও বেশী সংখ্যক পর্যটক পেয়ে বেজায় খুশি।
কেয়ারাী সিন্দাবাদের ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম। বর্তমানে প্রচুর পর্যটক সমাগম রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও। কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে আরও পর্যটক সমাগম ঘটবে।
সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, দ্বীপের কয়েকটি হোটেল ছাড়া ছোট-বড় হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি দ্বীপে রয়েছে। দ্বীপে যাতে কেউ উশৃংখল করতে না পারে সেজন্য সদা নজরদারী রাখা হয়েছে। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা ও মাদকের যত্রতত্র ব্যবহার রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন ষ্টেশন কমান্ডার লেঃ ডিকশন চৌধুরী বলেন, সরকারী ভাবে কক্সবাজার সৈকতে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখানেও এধরনের কোন নির্দেশনা আসে তাহলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া দ্বীপে আগত পর্যটকদের জন্য সব সময় নিরাপত্তা প্রদানে সতর্ক রয়েছে।

চাহিদা ‘পর্যটক টুপি’
দেশ-বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের প্রচুর টুপি’র চাহিদা রয়েছে। যা স্থানীয়ভাবে ‘পteknaf pic 26.12.2015 (st-2)র্যটক টুপি’ নামে পরিচিত।
হরেক মডেলের টুপিগুলো কিনতে পর্যটকদের ভীড় লক্ষ্য করা মতো। বিশেষ করে তরুন-তরুনীদের চাহিদা বেশী। তাছাড়া আবাল-বৃদ্ধারাও ওই পর্যটক টুপিগুলো কিনতে দেখা যায়। এই টুপি গুলো সেন্টমার্টিনের সৈকত ভ্রমন কালে সুর্যের তীক্ষè আলো থেকে প্রায় রক্ষা করে থাকে। এছাড়া অনেকে নিজেকে মডেলিং করার জন্য টুপিগুলো ব্যবহার করে থাকেন। টুপিগুলো জাহাজঘাটের বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যায়। যার মূল্য ৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*