,

টেকনাফের স্থল ও নৌ-পথে চোরাচালান তৎপরতা বৃদ্ধি

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ []   ইয়াবা
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থল ও জলপথে চোরাচালান তৎপরতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন ও শীতকালীন হচ্ছে, চোরাইপণ্য পাচারের ভরা মৌসূম এবং নিরাপদ। কেননা এ দুইটি মৌসূমে চোরাইপণ্যের চাহিদা বেশী থাকায় স্থল ও জলপথে সমানতালে চলে চোরাচালান বাণিজ্য। স্থল পথে বিভিন্ন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক চেকপোষ্ট এবং নজরদারী থাকায় ছোটখাটো চোরাইপন্যের চালান আটক হয়। কিন্তু তার চেয়ে বেশী চোরাইপন্যের চালান সাগর পথে পাচার হয়ে যাচ্ছে নীরবে। এর মধ্যে ইয়াবার চালান সবার শীর্ষে। মূলতঃ ইয়াবার বড়ধরনের চালান মাছ ধরার (ফিশিং বোটের) আড়ালে পাচার হয়ে থাকে। যাহা অতীতে বিভিন্ন সংস্থার হাতে ধরা পড়ে।
স্থল পথে ইয়াবার চালান পাচারের একমাত্র নিরাপদ বাহন হচ্ছে, যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট গাড়ী। এছাড়া রয়েছে মোটর সাইকেলে যোগান তৈরীর মাধ্যমে কৌশলে আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার চালান ও চোরাইপণ্য পাচার করে আসছে। নাফ-নদীর জিরো পয়েন্টে চোরাইপন্য দুদেশের জেলের মাধ্যমে  হাতবদল করে চলে আসে।
যে সব চোরাই পয়েন্ট দিয়ে চোরাইপণ্য উঠে তার মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া, সাবরাং নয়াপাড়া, নাজির পাড়া, জালিয়াপাড়া, নাইট্যংপাড়া, বরইতলী, কৈরুনতলী, জাদিমুড়া ও জইল্যারদ্বীপ। এসব চোরাইপয়েন্ট থেকে বেশীরভাগ চোরাইপণ্য আটকের শীর্ষে ২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
যদিও নৌ-পথে কোষ্টগার্ড বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলে ও তাদের অভিযান তেমন চোখে পড়ার মত নয়।
টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ২০১৫ সালে জানুয়ারী হতে ২০ ডিসেম্বর ১২ মাসে স্থল পথে পৃথক চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১৫০ কোটি ৯৬ লক্ষ ২২ হাজার ২শত টাকার মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাইপণ্য আটক করেছে। এর সাথে জড়িত ২৬৮ জনকে আটক এবং পলাতক ৫১ জনকে আসামী করে ১৬৪৯টি মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩৩লক্ষ ৩৪ হাজার ২শত টাকার পরিমান ৪৪ লক্ষ ১১ হাজার ১১৪ পিস ইয়াবা। অন্যান্য আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে- বোতলজাত মাদক, খোলা মদ, গাজা, থান কাপড়, পালথিং ব্যাগ, সিগারেট, কারেন্টজাল, কাঠ, জারিকেন, ঔষধ, আলু, ময়দা, সুপারী, ডিজেল, ভোজ্য তৈল, পিয়াজ, রসুন, ইউরিয়া সার, মোবাইল, গেঞ্জি, পানির ফিল্টার, চিনি, কম্বল, কোমল পানিসহ বিভিন্ন মালামাল। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চোরাইপন্যের পাশাপাশি দেশীয় তৈরী বন্দুক, পিস্তল,এলজি ও সাটারগানসহ ১১টি অস্ত্র ও ২৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। সেই সাথে ৩১৩২ জন মিয়ানমার নাগরিক এবং মিয়ানমারে ফেরৎ ৩১৩২জন এবং থানায় সোর্পদ করা হয়েছে ১৬ জনকে।
টেকনাফের যে, ক’জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় নাম রয়েছে তার মধ্যে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অবস্থান করে সাগর পথে ইয়াবার বড় ধরনের চালান নিয়ে আসছে। তারা রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে এ ব্যবসা বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে। সাগর পথে ইয়াবার বড় ধরনের চালান, নিয়ে আসছে। সাগর পথে ইয়াবার বড়ধরনের চালান, পাচার হয়ে ঈদগাহ ইসলামপুর, চট্টগ্রামের গহিরা, আনোয়ারা কুমিরা ও ঢাকা নারায়নগঞ্জে খালাস হচ্ছে। যাহা অতীতকে পর্যন্ত হার মানিয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় দৈনিক ৬লাখ ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা মেটাতে স্থলও নৌ-পথে ইয়াবার চালান সমানতালে পাচার পয়ে যাচ্ছে।
২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অধিনায়ক আবুজার আল জাহিদ জানান- মাদক ও মানবপাচারের  বিরুদ্ধে বিজিবি অবস্থান জিরো ট্রালারেন্স অব্যহত থাকবে। এতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*