,

থাইল্যান্ডে গণকবর : ৩ শতাধিক দালাল অধরা, নিখোঁজ ৫ শতাধিক

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া []         Ukhiya Pic-05-05-2015
কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের ফজু সওদাগরের ছেলে এরশাদ (২৩) ৩/৪ মাস পূর্বে দালালদের খপ্পরে পড়ে উখিয়ার সোনারপাড়া উপকূল দিয়ে সমূদ্র পথ দিয়ে মালয়েশিয়া পাচার হয়েছিল। প্রায় ২মাস পাচারকারী চক্রের থাইল্যান্ড জঙ্গলে বন্ধি শিবিরে আটক থাকার পর খাদ্যাভাব, অপুষ্টি, বিনা চিকিৎসা ও নানা রোগে মৃত প্রায় অবস্থা হয়। অবশেষে মাসখানেক পূর্বে খবর পেয়ে দালালদের হাতে আড়াই লাখ টাকা তুলে দেওয়ার পর দালালরা তাকে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়। জমি জিরাত বিক্রি করে ছেলের কান্না সইতে না পেরে প্রায় ১৫ দিন পূর্বে মালয়েশিয়া থেকে মৃত প্রায় অবস্থায় বিমানে করে ফিরে আনা হয় বলে এরশাদের পিতা ফজু সওদাগর জানায়। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এরশাদ ঘরের বিছানায় বিকলাঙ্গ অবস্থায় শুয়ে শুয়ে দিন কাটাচ্ছে। এরশাদ গতকাল কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, প্রায় ১৮ দিন সমূদ্রে ফিশিং বোটে করে চলার পথ পাচারকারীরা প্রায় আড়াই শ লোককে থাইল্যান্ড উপকূলে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে পাচারকারী চক্রের অন্য দালালরা আমাদেরকে বুঝিয়ে নিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্তের গহীন জঙ্গলে বন্ধি শিবিরে আটকিয়ে রাখে। আমাদের মত আরো কয়েক শ লোক পাচারকারী দালালদের চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের বন্ধি শিবিরে আটক রয়েছে। আটক অভিবাসীদের অধিকাংশ বাংলাদেশী এবং কিছু রোহিঙ্গা। দালাল চক্র যাদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী মুক্তিপনের টাকা আদায় করতে তাদেরকে অন্য দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পৌঁছিয়ে দেয়। আর যাদের কাছ থেকে বা তাদের আত্মীয় স্বজনের আর্থিক অবস্থা খারাপ এবং টাকা দিতে অক্ষম তাদেরকে অভুক্ত রেখে বন্ধি শিবিরে ফেলে রাখা হয়। সেখানে মাসের পর মাস না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়াদের অমানবিক ভাবে জঙ্গলের ভিতর গণকবর দিয়ে থাকে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ভালুকিয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ী গ্রামের সোলতান আহমদের ছেলে রিদুয়ান আতিক ও একই গ্রামের মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র জসিম উদ্দিন গত প্রায় ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ। ১৮ এপ্রিল প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে বের হলেও এ পর্যন্ত তাদের খোঁজ মিলছে না। উভয় শিশুর পিতা উখিয়া থানায় একই গ্রামের মানবপাচারকারীর চক্রের সদস্য ঠান্ডা মিয়ার ছেলে তোফাইল আহমদ, জয়নাল আবেদন ও নূর হোসেনকে সন্দেহ করে অভিযোগ দিয়েছে। অভিভাবকদের দাবী ফুসলিয়ে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার লোভে মানবপাচারকারীরা তাদের শিশুদের অপহরণ করে বড় দালালদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। অভিযুক্ত তোফাইল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফে অবস্থান করে এলাকার অনেক লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী দালালদের হাতে তুলে দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
উখিয়া সদরের হাজিরপাড়া গ্রামের মকবুল আহমদের ছেলে কামাল উদ্দিন (৩২) ও আমির হোসেনের ছেলে (৩০) টেকনাফে কাজ করত। পাচারকারীরা তাদের মালয়েশিয়ায় ভাল বেতনের লোভ দেখিয়ে সমূদ্র পথে পাচার করে দেয়। দালালদের হাতে টাকা ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো তাদের কোন হদিস পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে তাদের অভিভাবকরা। দীর্ঘ ১ বছর ধরে তাদের খোঁজ না পেয়ে ওদের ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। হলদিয়া রুমখাঁ মনি মার্কেট এলাকার পাচার হওয়া নাড়ি ছেড়া ধন ছেলে একরাম (১৬) কে পাচারকারীর কবল থেকে মুক্তির আশায় সহায় সম্বল বিক্রি করে দালালদের হাতে ৩ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিল অসহায় মা শামশুন্নাহার (৫৫)। কিন্তু ছেলেকে পায়নি বরং ছেলের খোঁজে গেলে একাধিক বার পাচারকারীদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে বলে সে জানায়। এভাবে অসংখ্য স্ত্রী স্বামীকে, মা ছেলেকে, পিতা পুত্রকে, সন্তান পিতাকে হারিয়ে তাদের আপন জনকে ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তের জঙ্গলে গণকবর থেকে ২৬ টি গলিত লাশ উদ্ধার ও ওই জঙ্গলে ৩০টি গণকবর ও ৫শতাধিক মানুষের মৃত দেহ থাকার খবরে বাংলাদেশের ও রোহিঙ্গাদের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের আপসোস নিকট আত্মীয়দের হয়তো কবরেরও সন্ধান মিলবেনা। এছাড়া দালালদের চাহিদা অনুযায়ী মুক্তিপনের টাকা দেওয়ার পরও বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী দালালরা নিখোঁজ লোকদের সঠিক খবর দিচ্ছে না। তাছাড়া সমূদ্র পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দেওয়া কয়েক হাজার বাংলাদেশী ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা এসব দেশের বিভিন্ন কারাগারে চরম অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে অনাকাংখিত দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাধ্যমে এসব দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব যাছাই করতে থানার নিকট প্রতিবেদন চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের টাকার জন্য না ভাবে হয়রানী করে থাকে বলে অনেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার সত্বে মানবপাচার নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালনকারী স্থানীয় এনজিও হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক এমএ কাশেম জানান।
সরজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার স্থানীয় লোকজন ছাড়াও নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষিরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া, কুমিল্লা, লক্ষিপুর, রাজশাহী, সিলেট, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, শেরপুর সহ অন্তত ৩১ জেলার লোকজনদের টার্গেট করে মানবপাচারকারী দালাল চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে লোকজনদের সমূদ্র পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন পাচার করে যাচ্ছে। গত ১ সপ্তাহ পূর্বে উখিয়ার ইনানী এলাকা থেকে পাচারের অপেক্ষামান ৪ জনকে ১ দালালসহ পুলিশ আটক করে। গত ৭ বছরে মানবপাচারকারী দালাল চক্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অন্তত ২ লক্ষাধিক লোকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে সমূদ্র পথে চরম ঝুকি নিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া পাচার করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন বা ইউএনএইচসিআর সহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে গত বছর সমূদ্র পথে বাংলাদেশ উপকূল দিয়ে আড়াই লক্ষাধিক বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা নাগরিক পাচারের শিকার হয়। তৎমধ্যে ৫৪০ জনের লাশ ও আরো প্রায় ৩ হাজারের মত জীবিত উদ্ধার করে বাংলাদেশ সহ সংশ্লিষ্ট দেশের আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনী। গত ১ সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ড জঙ্গলে গণকবরের সন্ধান সম্পর্কিত খবরে বিশ্ব ব্যাপী আলোড়ন, উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও কক্সবাজার পুলিশ সহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩ শতাধিক দালালের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উখিয়ার শীর্ষ মানবপাচারকারী গডফাদার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা ভুক্ত উপকূলীয় ছেপটখালীর ফয়েজ আহমদ, আবুল কালাম, লাল বেলাল, জাহেদ মেম্বার সহ প্রায় সকলে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়া থানায় দাযেরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে সাগর পথে মালয়েশিয়া মানব পাচারকারী দালাল ও সহযোগি হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছে মনখালী গ্রামের বশরত আলীর ছেলে মোহাম্মদ হোছন প্রঃ ফেসুক্রুরী (৪৫), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দু রাজ্জাক (২৮), মোঃ ফয়সাল (৩২), মোহাম্মদ হোছন (৩৫), তোফাইল আহম্মদ, বাহাদুর, গোলাম শরিফের ছেলে নুরুল বশর, চেপটখালীর ফয়েজুর রহমান, মাদারবুনিয়ার শফিকুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল (২৫),  মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মোজাম্মেল হক, মৃত আব্দুল্যার ছেলে আবু তাহের, মোঃ ইউনুছের স্ত্রী রোকসানা আক্তার, মোঃ জাফরের ছেলে আব্দুল জলিল, মোজাহের মিয়ার ছেলে মোঃ উল্যাহ, চোয়াংখালী গ্রামের, জাহেদুল আলম, বার্মাইয়া হাশেম মাঝি, রোহিঙ্গা শরণার্থী জহির আলম, খাইরুল আমিন, নুরুল ইসলাম, রাবেয়া বেগম, আরেফা বেগম, আয়ুব মাঝি, ফরিদ আলম, শাহ আলম মৌলভী, ছৈয়দ হোসেন, শামশুল আলমের ছেলে রুবেল, আব্দুল¬াহর ছেলে আব্দুল আজিজ, ছৈয়দুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহিম, আবুল কাছিম প্রঃ সুদি কাছিমের ছেলে মনজুর আলম, মোঃ আলমের ছেলে আবু তাহের, মৌলভী বদিউজ্জামানের ছেলে করিম উল¬্যাহ, আব্দুল মালেকের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন, শফি আলমের স্ত্রী রহিমা খাতুন, মোঃ হোছনের ছেলে ভুলু, সোনার পাড়ার নুরুল কবিরের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা রেজি প্রঃ রেবি ম্যাডাম, রতœাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা গ্রামের রোস্তম আলী বৈদ্যের ছেলে আনোয়ার ইসলাম প্রঃ আনোয়ার ড্রাইভার ওরপে ডঙ্গী আনোয়ার, পূর্ব সোনার পাড়া বড় পাড়ার হাজী হোছন আলীর ছেলে আব্দুর রশিদ, সোনার পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্বে বাড়ী বদিউল আলমের ছেলে নুর হোছন, পূর্ব সোনার পাড়া গ্রামের কালা মন্টুর ছেলে নুরুল কবির, সোনাইছড়ি গ্রামের শামশুল আলম সোহাগ, মৃত ইউছুপ আলীর ছেলে রোস্তম আলী, সোনার পাড়া গ্রামের অজি উল্যাহর ছেলে কাউছার আহম্মদ জনি, ওমর সওদাগরের ছেলে আলমগীর হোছন রানা, পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের আবু ছৈয়দের ছেলে মাহাদু, নুর মোহাম্মদের ছেলে আহম্মদ শরিফ, মৃত হোছন আলীর ছেলে শাহ আলম, মৃত রশিদ আহম্মদের ছেলে আব্দুল¬্যাহ, আব্দুল জলিলের ছেলে লাল মাঝি, মৃত মোজাফ্ফর আহম্মদের ছেলে রাসেল, ফজল আহম্মদের ছেলে শামশু আক্তার, উত্তর সোনাইছড়ি গ্রামের হাবিব উল¬্যাহর ছেলে জয়নাল উদ্দিন জুনু, আমির হামজার ছেলে ছৈয়দ আলম, সুলতান আহম্মদের ছেলে মুজিবুল হক, সোনার পাড়ার জমির আহম্মদ প্রঃ কালা জমির, সোনাইছড়ি গ্রামের শফি আলম, জমির আহম্মদ, শামশুল আলম সোহাগ, লম্বরী গ্রামের ছৈয়দ আলম তাবাইয়া, বেলাল প্রঃ লাল বেলাল, উখিয়ার রূপপতি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে জমির মিয়া, গফুর মিয়া (৩৮), কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের সেকান্দরের ছেলে আবু ছৈয়দ (২৬), আবু ছিদ্দিক (৩০), চোয়াংখালী গ্রামের  শামশুল হকের ছেলে ছলিম উল¬্যাহ (৩০), জালিয়া পালং ডেইল পাড়া গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে মোঃ আবু তাহের (৩৫), আহম্মদ হোছনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৮), রফিক উল্য¬াহ (৩০), রহমত উল্যাহ (৩২), সোনার পাড়া গ্রামের মির আহম্মদ প্রঃ মিরু বলির ছেলে মোঃ শফিউল আলম (৩০), নাজির হোছন প্রঃ নাজুর ছেলে জয়নাল আবেদিন (২৮), শামশুল আলমের ছেলে জালাল উদ্দিন (২৮), মৃত কাদের হোছন বৈদ্যর ছেলে নুরুল কবির (৪০), নুরুল কবিরের ছেলে  নুরুল আবছার (২০), বশির আহম্মদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫), মোঃ ইলিয়াছের ছেলে সাগের আলী প্রঃ সাগর (৩০), নুরুল আলম মাঝি মোঃ আলম (৩৫), সোনাইছড়ি গ্রামের মোঃ সোলতান প্রঃ হাতী সোলতানের ছেলে জিয়াউল হক (৩৮), শফি আলম (৩৮), টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে নুর হোছন (২৪), মৃত জমির হোসনের ছেলে মোঃ নাগু (৩৫), নাজির পাড়া গ্রামের মৃত মনি উল¬্যাহর ছেলে কামাল (৩০), কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের আলী আহম্মদের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৮), আমিন উল্য¬াহ প্রঃ নাগুর ছেলে মোঃ ফারুক (১৯), শামশুল আলমের ছেলে জোবাইর হোসেন (২০), কক্সবাজার কালুর দোকান এলাকার রোহিঙ্গা মোঃ জুহারের ছেলে মনজুর আহম্মদ (১৮), মৃত কালা মিয়ার ছেলে কাশেম (৪০), জাহিদ হোছনের ছেলে আবুল কালাম (২৬), চট্টগ্রাম কর্ণফুলি চিরার টেক গ্রামের রোহিঙ্গা মোঃ আজিম (৩৬), কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মৃত ফোরকান আহম্মদের ছেলে রবিউল আলম (২২), মৃত ফারুক আহম্মদের ছেলে ছৈয়দ আমিন (২৭), হাছু মিয়ার ছেলে হামিদ হোসেন (২২), জাফর আহম্মদের ছেলে আরিফ উল¬্যাহ (২০), শফি উল¬্যাহর ছেলে ছৈয়দ কাশেম (১৯), কামাল হোছনের ছেলে রশিদ উল্য¬াহ (২০), উলা মিয়ার ছেলে মোঃ কালু (২০), টেকনাফের শাপলাপুর পুরান পাড়ার শফি উল¬্যাহর ছেলে আশিক উল্য¬াহ (২০), শহীদুল¬্যাহ (৩২), মৃত হাবিব উল্য¬াহর ছেলে শফি উল¬্যাহ (৬০),  টেকনাফ উপজেলার কাটাবনিয়া গ্রামের ছৈয়দ আহম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃত লাল মিয়ার ছেলে মোঃ রফিক, আব্দুল মাজেদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মোজাহের মিয়া, যশোর ঝিকর গাছা গ্রামের আজিজুল (৩৮) নরসিংদীর চর আড়ালিয়া গ্রামের এমরান, মোমেন (৩৫), মাদারবুনিয়ার আব্দুল জলিল, লম্বরী পাড়ার বেলাল প্রঃ লাল বেলাল (৩৫), পশ্চিম সোনার পাড়ার জালাল উদ্দিন, মাগুরা জেলার শালিকা গ্রামের মোঃ ইসমাইলের ছেলে মোঃ হাকিম,  রামু থানার খুনিয়া পালং গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মাহমুদুল হক (৩৫), মোঃ কালুর ছেলে নুরুল কবির বাদশা (৩৮), পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে মুজিবুল হক (৪০), জুম্মাপাড়া গ্রামের মৃত কবির আহম্মদের ছেলে আব্দুস ছালম, মকবুল আহম্মদের ছেলে বেলাল প্রঃ কালা বেলাল, অফিস পাড়া গ্রারে মৃত ছালেহ আজম্মদের ছেলে শামশুল আলম, মুফিজুর রহমান সহ শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ৩ শতাধিক দালাল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত প্রতিবেদনে ৩৮৫ জন মানবপাচার কাজে গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত হলেও তাদের সহযোগি হিসেবে উল্লেখিত জেলার বিভিন্ন স্থানে আরো কয়েক হাজার সহযোগি মানবপাচার কাজে জড়িত রয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে আরো ১৬ মাঝিও জড়িত রয়েছে। উখিয়ায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, গত ৩ বছরে উখিয়া থেকে সমূদ্র পথে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পাচার হয়ে গেছে। তৎমধ্যে বিভিন্ন ভাবে উদ্ধার হয়েছে ৫ হাজারের মত, নিখোঁজ ৬ শতাধিক এবং মৃত্যু ঘটেছে শতাধিক মানুষের। তিনি বলেন, বিভিন্ন ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সমূদ্র পথে পাচার হয়ে যাওয়াদের মধ্যে থাইল্যান্ড কারাগারে ৭ হাজারের মত, মালয়েশিয়া কারাগারে ৮ হাজারের মত, মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে আড়াই হাজারের অভিবাসী আটক রয়েছে। তার মতে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, উখিয়ায় ৮/১০ জন গডফাদারের নেতৃত্বে পাড়া-গ্রাম ভিত্তিক ছোট ছোট দালাল গড়ে উঠেছে। এ ধরণের আড়াই শতাধিক দালাল সর্বত্র সক্রিয় রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান বিভিন্ন দেশের কারাগারে আটক ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাছাই- বাছাইয়ে পুলিশ কর্তৃক হয়রানীর কথা অস্বীকার করে বলেন, গত শুক্রবারও দুইটি মানব পাচারের মামলা সহ উখিয়া অর্ধশতাধিক মানবপাচার মামলায় ২ শতাধিক আসামী রয়েছে। থাইল্যান্ডে গণকবরের খবরে থানা পুলিশ সর্বত্র দালালদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে এবং তাদের আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের পাশা-পাশি বিজিবি ও সমূদ্র পথে মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা পালন করে চলছে। গত এপ্রিল মাসে মিয়ানমার থেকে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে প্রায় ৭ শ রোহিঙ্গাকে বিজিবি আটক করে মিয়ানমার ফেরত পাঠিয়েছে। সমূদ্র পথে মানবপাচার প্রতিরোধে কক্সবাজার বিজিবি উখিয়ার সোনারপাড়ায় রেজু নদীর মোহনাস্থলে অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করেছে। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ খুরের মুখ এলাকায়ও বিজিবির অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*