,

ডিসির নির্দেশ উপেক্ষা করে কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ ফাজিল মাদ্রসার গর্ভনিং বডি অবৈধভাবে গঠনের পায়তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি,কুতুবদিয়া(কক্সবাজার)[]  
কক্সবাজারের অবহেলিত দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার গর্ভনিং বডি গঠনে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারএর নির্দেশ উপেক্ষা করে নিয়ম বর্হিভূত ও দূর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার  পায়তারা করছেন। এদিকে অধ্যক্ষ নূরুল আলম নিয়ম বহিভুতভাবে গোপনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক প্রতিনিধি পদে সদস্য ফরম নেয়ার জন্য গত ৫এপ্রিল প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন সম্ভাব্য অভিভাবক সদস্য পদপার্থী মৌ: জাফর আহম্মদ। কিন্তু তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারেননি । কেননা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আলম তাকে জানিয়েছেন মনোনয়ন ফরম সংগ্র্রহের সময় ২ দিন আগেই শেষ হয়েছে। এই অভিভাবক আরো জানান সুত্রে সরকারী বিধি মোতাবেক তিন বছরের জন্য মাদ্রসা পরিচালনা পর্ষদ( গভনিং বডি) গঠন করা হয় । সেই অনুসারে গত ২০১১ সালে গর্ভনিং বডি গঠন করা হয়। গত বছরের ৪ নভেম্বর কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীন্ন হলে নিয়মাতান্ত্রিক ভাবে কমিটি গঠনে ব্যাথ হয় মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ। পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য  গত ১০ জানুয়ারী ৬ মাসের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়। বিধি মোতাবেক এডহক কমিটি  খসড়া ভোটার তালিকা প্রনয়ন করে সংশোধিত ভোটার তালিকা ৩দিন নোটিস বোর্ডে স্থাপনের পর নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ নুরুল আলম অভিভাবক,ছাত্র/ছাত্রী এবং শিক্ষদের না জানিয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে তার পছন্দের কয়েকজন অভিভাবককে সদস্য ফরম সরবরাহ করেন। গোপনে ফরম সরবরাহ করার খবর পেয়ে অন্যান্য অভিভাবকরা মাদ্রসা অধ্যক্ষ নূরুল আলমের সাথে ফরম নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে ২দিন আগে ফরম সরবরাহ দেওয়ার সময় চলে যায় বলে জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে অভিভাবক মৌ: জাফর আহম্মদ জানায়,মাদ্রাসা বিগত ৯ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৫ এপ্রিল খোলা হলে অভিভাবক সদস্য ফরম সংগ্রহের জন্য গেলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আলম ফরম সরবরাহের মেয়াদ ২ দিন আগে চলে যায় বলে জানান। দাখিল পরীক্ষা চালাকালীন মাদ্রাসা বন্ধের সময় কি ভাবে মেয়াদ চলে যায় আমার বোধগম্য নয়। অপর সদস্য রাহামত উল্লাহ জানায়,গত ৫ এপ্রিল মাদ্রাসা খোলার পর অভিভাবক সদস্য ফরম বিতরণের খবর পেয়ে অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে ফরম সরবরাহের সময় চলে যায় বলে জানায়। সাবেক গভনিং বডির অভিভাবক সদস্য এড.সেলিম উল্লাহ জানায়, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নুরুল আলম আমাদের কাউকে না জানিয়ে গোপনে অভিভাবক সদস্য ফরম বিতরণ করেছে। যাহা বিধি বিধানকে তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষ দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গভনিং বডির কমিটি গঠনের পায়তারা করা হচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কক্সবাজার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে কুতুবদিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে নিদের্শ প্রদান করলেও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় এব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়ায় করা হবে। এ ব্যাপারে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যাপক ও দীর্ঘ ১যুগ ধরে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি আওরঙ্গজেব সিকদার জানায়, খসড়া ভোটার তালিকার পর থেকে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ও নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা কোনটায় না করে কিভাবে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার সময় চলে যায় তা আমার ১যুগ ধরে অর্জিত অভিজ্ঞতার মধ্যে বোধগম্য নয়। উল্লেখ্য যে একই মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ নিয়োগের সময় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়াতে গত বছরের ৩০ জুন জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষাকে দায়িত্ব দেন এবং একই বিষয়ে কক্সবাজার মুনসেপ কোর্টে ২টি মামলা রজু হয়। একটি মামলার বাদি অধ্যাপক আওরঙ্গজেব একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়ায় মামলার আপোষ দিতে বাধ্য হলেও অপর মামলার বাদি ছৈয়দ আহমাদ তারেক এখনো আপোষ করেনি। এ ব্যাপারে এডহক কমিটির সভাপতি শেখ ফরিদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার কথা ছিল তবে করেছে কিনা আমি জানিনা। অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে পরে জানাবেন বলে জানান। অধ্যক্ষ নুরুল আলমের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায় সব কিছু টিকটাক ভাবে করা হয়েছে।

One comment

  1. ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটার কারা হবেন এই বিষয়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কি এবং নিদের্শনা ও প্রজ্ঞাপন আছে কি। থাকলে জানালে উপকৃত হইবো।

মতামত...