,

চকরিয়ায় চোরাই কাঠে ফিশিং বোট তৈরীর হিড়িক

এম, মনছুর আলম, চকরিয়া []Picture Chakaria    11-02-2015
চকরিয়ায় বনের  চোরাই কাঠ দিয়ে দেদারছে চলছে ফিশিং বোট তৈরীর হিড়িক। বনবিভাগের কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই কতিপয় ব্যবসায়ীরা মাতামুহুরী নদীর চরে ফিশিং বোট তৈরীতে নেমেছে। অভিযোগ রয়েছে, বোট তৈরীতে জড়িতদের সাথে বনকর্মীদের অলিখিত সমঝোতা রয়েছে। এ অবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরে একাধিক পয়েন্টে ফিশিং বোট তৈরীর কাজ অব্যাহত থাকলেও তা বন্ধে বনকর্মীরা পালন করছে নীরব ভুমিকা। পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, অবৈধ ফিশিং বোট তৈরীতে বেসুমার গাছ ব্যবহার হওয়ার কারনে কক্সবাজার উত্তর, চট্টগ্রাম দক্ষিন ও লামা বনবিভাগের সরকারী বনাঞ্চলের মুল্যবান বনজসম্পদ দিন দিন উজার হতে চলছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে জেগে উঠা চরে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা বনাঞ্চলের মাদার ট্রি নিধন করে একাধিক ফিশিং বোট তৈরীর কাজ শুরু করেন। অন্য বছরের মতো এবছও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বর্তমান মৌসুমে চলছে ফিশিং বোট তৈরীর কার্যক্রম।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ফিশিং বোট তৈরীতে ব্যবহার করা লম্বা আকৃতির গাছ মুলত সংগ্রহ করা হচ্ছে কক্সবাজার উত্তর, চট্টগ্রাম দক্ষিন ও লামা বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে। বনকর্মীদের ম্যানেজ করে কাঠ চোরাকারবারী চক্র রাতের আঁধারে এসব কেটে পাচার করে জড়িত রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষেত্রবিশেষে বনকর্মীরা ম্যানেজ হলেও এসব ফিশিং বোট তৈরীতে বনবিভাগের কোন ধরণের অনুমতি নেই। বনবিভাগের উর্ধবতন মহলকে শুধুমাত্র বুঝানোর জন্য কতিপয় ব্যবসায়ীরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিপির কাঠ দিয়ে ফিশিং বোট তৈরী করা হয় বলে অজুহাত দেখানো হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের রোস্তমআলী চৌধুরী পাড়াস্থ মাতামুহুরী নদীর তীরে ফিশিং বোট তৈরী করছেন ছিদ্দিক আহমদ বহদ্দার নামের একব্যক্তি। তার মতো নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় মাদার ট্রি কেটে বেতুয়াবাজার, পহরচাঁদা, কৈয়ারবিল এলাকায় ফিশিং বোট তৈরীতে ব্যবহার করছেন আরো অনেকে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়ার ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা খান হাফিজুর রহমান বলেন, ফিশিং বোট তৈরীর জন্য কেউ বনবিভাগ থেকে অনুমতি নেয়নি। তবে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিদ্দিক আহমদ নামের একব্যক্তি নিলামের কাঠ ব্যবহার করে বোট মেরামতের অনুমতি চেয়ে বনবিভাগে আবেদন করেছে। তিনি আরো বলেন, মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে যেসব ফিশিং বোট তৈরী করা হচ্ছে সবই অবৈধ। তদন্ত করে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*