,

টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসা ও মানব পাচার ফের বেড়েছে

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম,টেকনাফ [] yaba & manab pasar
টেকনাফে আবারো ইয়াবার জোয়ার ও মানব পাচারের উৎসব এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝন-ঝনানী শুরু হয়েছে। এতে খুনা-খুনির পাশাপাশি সাধারণ নিরীহ মানুষ চরম আতংকে রয়েছে। একশ্রেণীর সুযোগ সন্ধানী দালাল তাদের সহায়তা করায় মাঝে-মধ্যে প্রশাসনের নানা ধরনের অভিযান ব্যর্থ হয়ে যায়। যার কারণে এসব অপরাধীরা সময়ে আইন-শৃংখলা ব্যাহত করে।
তথ্যানুসন্ধানে এই সীমান্ত উপজেলার সেন্টমার্টিন ব্যতিত অপর ৫ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জেরধরে সংঘর্ষ ও সংঘাতের সৃষ্টি হলে অবৈধ দেশীয় ও ভারী অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা সচেতন জনসাধারণকে আতংকিত করে তুলেছে। গত ৬ মাসে বৃহত্তর শাহপরীর দ্বীপ হতে বাহারছড়া ইউনিয়নের মনতলিয়া ঢালাপথ হতে পুরো উপকূলের হাবিবছড়া পর্যন্ত এলাকার বিচ্ছিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক, জমি-জমা বিরোধ, ইয়াবা বহন, মানব পাচার, নদী-সাগরে দস্যুতা, চোরাচালান, সড়ক ডাকাতিসহ তুচ্ছ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়ে থাকে। বিজিবি-পুলিশ, র‌্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের অভিযানে বিগত সময়ে বিপূল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্র উদ্ধারে এরই সত্যতা পাওয়া যায়। ঈদের নামাজের সময় টেকনাফ নাজিরপাড়ায় গোলাগুলি, মাসখানেক পূর্বে মহেশখালীয়াপাড়ায় খোয়া যাওয়া ভারী অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা, আলীখালী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালানের বিনিময়ে উন্নতমানের পিস্তল পাচার, সর্বশেষ আলীখালী এলাকায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুপক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বোরহান উদ্দিন নামে এক কিশোরের নির্মম মৃত্যু জনসাধারণকে আতংকিত করে তুলেছে। পরিবার থেকে জমি বিরোধের কথা বলা হলেও অনেক সংবাদকর্মী ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ে এই হত্যাকান্ড বলে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। মুলত টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ী, মানব পাচারকারী ও অস্ত্রধারীরা প্রশাসনের ধরা-ছোয়াঁর বাইরে থাকার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, চোরাচালানী চক্রের ছত্র-ছায়ায় অবৈধ অস্ত্রের ঝন-ঝনানীতে শান্ত জনপদকে অশান্ত করে তুলছে। প্রশাসনের সঙ্গে লিয়াঁজো করার জন্য এসব অপরাধীরা স্বজনদের মধ্যে টাকার বিনিময়ে সংবাদকর্মী তৈরী করে ব্যাংকিং লেন-দেনসহ যাবতীয় কার্যক্রম দেদারসে চালিয়ে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অনেকে বিকাশ ও হুন্ডি লেন-দেনের মাধ্যমে এসব অপরাধীদের সহায়তা করে আসছে।
এখন এসব অপরাধীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণীর দালাল স্বার্থের জন্য এসবের দালালী করে তালই ও তালত ভাইদের বাঁচানোর মত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বর্তমানে টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকায় আবারো যেহারে ইয়াবা বাণিজ্য, মানব পাচার ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে তা দ্রুত রোধ করা না গেলে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মিছিল বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*