,

উখিয়ার উপকূলের সুবজ বেষ্টনী এখন বিলুপ্তির পথে

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া []            UKHIYA PIC 09.02.2015
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে পেচাঁরদ্বীপ হতে মনখালী ব্রিজ পর্যন্ত বি¯তৃর্ণ সবুজ বেষ্টনী (ঝাউবীথি) সংঘবদ্ধ কাঠচুর সন্ত্রাসীদের হাতে দিনদিন লুটপাটের পাশাপাশি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ ওই সব কাঠচুর সন্ত্রাসীদের সনাক্ত করার পরও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিনদিন আরো বেপরোয়া হতে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জলবায়ুর বিরোপ প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ, নদী ভাঙন ও মানুষের অত্যাচার সহ নানা কারনে ধ্বংস হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে বনবিভাগের সহায়তায় গড়ে তোলা হয় সবুজ বেষ্টনী। এসব ঝাউবীথি বিলুপ্ত হওয়ার কারনে হুমকীর মুখে পড়েছে প্রাণী ও জীব বৈচিত্র। অভিজ্ঞ পরিবেশবাদীদের অভিমত উপকূল অঞ্চলের সবুজ বেষ্টনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকায় পড়তে পারে উপকূলে বসবাসকারী ২৫হাজার পরিবার।
জানা গেছে, উখিয়ার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গাছপালা মরে যাচ্ছে। নদী ভাঙনেও গাছপালা বিলীন হচ্ছে। এছাড়া এক শ্রেণীর অসাধু কাঠ চুর সন্ত্রাসীরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করতে তৎপর রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় চোয়াংখালী এলাকার এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বদিউল আলমের পুত্র মোজাম্মেল (৩৪) ১০/১২জন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রাতে আধারে এসব ঝাউবীথি উজাড় করে চলেছে। সম্প্রতি চোয়াংখালী বিট কর্মকর্তা প্রায় ১শ ঘনফুট ঝাউ গাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় পাচারকারীদের ধাওয়া করে গাছ গুলো আটক করলেও মূলহোতার বিরুদ্ধে নিচ্ছেনা কোন ব্যবস্থা। এ প্রসংগে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম বলেন, চিহ্নিত কাঠ পাচারকারী মোজাম্মেল গাছ গুলো আটকের পর আমাকে অনেক হুমকি-ধমকি দিয়েছে। এরপর আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব এতে কোন সন্দেহ নেই। এলাকারবাসির অভিযোগ, এছাড়া ও মোজাম্মেল মানবপাচার, পুলিশ সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজি সহ নানান অপকর্ম করে যাচ্ছে।
ইনানী সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার শাহ আলম বলেন, সাগরের অতিরিক্ত লোনা পানি ও বালু এসে গাছের গোড়াই আটকা পড়ে। এতে নারিকেল গাছ সহ বিভিন্ন জাতের গাছ মারা যাচ্ছে। শুধু যে গাছ মারা যাচ্ছে তা নয়, একই সাথে উপকূল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। কমে যাচ্ছে নদী ও সাগরের মাছ। স্থানীয় কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের উচিত নতুন প্রজাতির গাছ আবিষ্কার করা। যা পরিবেশের সাথে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকতে পারে। পাশাপাশি গাছ নিধন ও পোড়ানো বন্ধ করতে হবে।
উপকূলীয় বনাঞ্চল সহ গ্রাম বাংলার রূপ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে সরকারি ও বেসরকারি সম্বলিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। যা মানুষ অন্যান্য প্রাণীকূল সহ সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি কারন হবে। সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় উপকূলীয় অঞ্চলের সুশীল সমাজ।  এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর আহমদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ঝাউবীথি উজাড় হলে করার কিছু নেই। তবে কাঠ পাচারকারীদের কারনে যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে অবশ্যই ওইসব কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা রুজু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*