,

বনবিভাগের কাঠ ও মাটি দিয়ে চলে ইট ভাটা

মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া []          Ukhiya Pic 09.01.2015-2
কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া ও ঘুমধুমের কচুবনিয়া এলাকায় বনভূমির পাহাড় সাবাড় করে এক শ্রেণির প্রভাবশালী পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বিহীন অবৈধ ২টি ইট ভাটা গড়ে তুলেছে। যার ফলে পরিবেশ দূষিত সহ ভারসাম্য হারানোর পাশা-পাশি দিন দিন  ফসলী জমি হ্রাস পাচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের জন্যও এ ইট ভাটা মারাতœক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের এক শ্রেণির প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এ ২টি ইট ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত ইট ভাটার বন্ধের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটটি স্থানীয় দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে এ ২টি অবৈধ ইট ভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক বনায়নের আকাশমনি, শামালিশ, জাম, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রকার কাঠ কেটে জ্বালানো হয় উক্ত ইট ভাটা গুলোতে।
জানা গেছে, উপজেলা পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকার শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত নূরুল হক, ডাক্তার নামধারী সাতকানিয়া কেরানীহাটের ইয়াবা ব্যবসায়ী দোলন মল্লিক, উখিয়া বাজারের প্যানাসিয়া ফার্মেসীর অসৎ কর্মচারী মামুন, উখিয়া কলেজের দুর্নীতিবাজ কেরানী শামশুল আলম, সিন্ডিকেট গঠন করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামে গড়ে তুলেছে অবৈধ ইট ভাটা। উক্ত ইট ভাটায় প্রতিনিয়ত বন বিভাগের গাছ এবং পাহাড়ী মাটি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বন বিভাগের কাজ হলো বন সম্পদ রক্ষা করা। কিন্তু বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উক্ত ইট ভাটার মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে বন বিভাগের গাছ এবং পাহাড় কেটে মাটি ইট ভাটায় পাচার করছে প্রতিনিয়ত। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে বন সম্পদ রক্ষা করবে কে ? এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখ আবদুস ছবুর চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে আমার কোন গাছ-বাশঁ কিছু নেই। আমি এমনি বসে আছি। এসব ডিসি সাহেব ও ইউএনও জানেন। এখানে আমার করার কিছু নেই।
এ ব্যাপারে ইট ভাটার মালিক নূরুল হকের কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, আমি পাত্রাজি বিট কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির আইসিকে মাসিক মাশুয়ারা দিয়ে এ ইট ভাটা চালিয়ে যাচ্ছি। সাংবাদিকরা আমাদের জন্য লিখে কিছু করতে পারবে না। কারণ আমাদের সাথে প্রশাসন আছে। টাকা দিলে সব কিছু করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক কাঠ ও মাটি পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*