,

উখিয়ায় হতদরিদ্রের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচী ‘র ব্যাপক হরিলুট

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া []            Ukhiya Pic-07-02-2015
অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান মূলক কর্মসূচী কর্মসৃজন প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নে কক্সবাজারের উখিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪০ দিনের এ কর্মসূচী মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নকারী প্রকল্প কমিটির লোকজন ও উখিয়া পিআইও অফিসের যোগসাজসে কাজ না করে শ্রমিকদের মজুরী উত্তোলনেরও অভিযোগ রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এ প্রকল্পের মেয়াদ আর মাত্র ৪দিন বাকী থাকলেও অনেক প্রকল্পে নির্ধারিত শ্রমিকদের কাজে আসতে নিষেধ করেছে প্রকল্প কমিটি গুলো।
শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী জুমেরছড়া হইতে বলি নূরুল ইসলামের বাড়ি ও সোনা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৬জন শ্রমিক উপস্থিত পাওয়া যায়। অথচ এ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা ৩৫ জন। প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক সিরাজুল হক, মোঃ ইসলাম, সেপাল দাশ জানায়, আমরা কয়েকজন লোক নিয়মিত কাজে এসে থাকি। অন্যরা কেন আসেনা সে ব্যাপারে তারা কোন কিছু জানাতে অপরাগতা জানায়। স্থানীয় আব্দুর রশিদ সহ আরো কয়েকজন জানায়, এগুলো সরকারের টাকা লুটপাটের প্রকাশ্য প্রকল্প। এখানে প্রকল্প কমিটির ইচ্ছামত শ্রমিক সর্বোচ্চ ১৪/১৫ জনের বেশি কোন সময় কাজ করেনি। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি পালংখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রহিম রাজা এব্যাপারে ফোনে বলেন, শ্রমিকরা কাজে আসলেও তাদের আত্মীয়ের অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে চলে গেছে।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া রফিক মেম্বারের বাড়ি হইতে হাজী ঠান্ডা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৩৬ জন, রাজাপালং ইউনিয়নের আরকান সড়কের হাজেম রোডের মাথা হইতে পূর্ব দিকে চাটাবনিয়া সোলতান আহমদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ১ শ জন, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় বিল মধ্যম রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৪০ জন, রতœাপালং ইউনিয়নের তেলীপাড়া হইতে ইউসুফ আলী সড়ক পুনঃ নির্মান, পালং গার্ডেন্ট হইতে তেলীপাড়া মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৪৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও গতকাল সরজমিনে সর্বোচ্চ গড়ে অর্ধেকের বেশী শ্রমিক উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। উলে¬খ্য চলতি অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রথম পর্যায়ে উখিয়ার ৫ ইউনিয়নে ৩১টি প্রকল্পে মোট ১৩২৭জন শ্রমিক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এসব শ্রমিকদের মজুরী বাবদ প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মাথা পিছু শ্রমিকদের মজুরী ২ শ টাকা।
উলে¬খ্য অভিযোগ রয়েছে ৪০ দিনের এ উন্নয়ন প্রকল্পে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও প্রকল্প সংশি¬ষ্ট লোকজন পরস্পর যোগসাজসে শ্রমিকদের কাজে আসতে নিষেধ করে সপ্তাহে নুন্যতম ২ দিন কাজ না করিয়ে ভুঁয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণের অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে যাচ্ছে বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান সিকদার জানান। এব্যাপারে উখিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ বাকি বিল¬াহ বলেন, উখিয়ায় কর্মসংস্থান কর্মসুচীর কাজ প্রায় শেষের দিকে। আর মাত্র ৪ দিন বাকী রয়েছে। উলে¬খিত অভিযোগ ও অনিয়ম সমূহ অস্বীকার করে তিনি বলেন, শ্রমিক নিয়ম অনুযায়ী উপস্থিত না থাকলে বিল প্রদানের সময় তাদের মজুরী কর্তন করা হবে। অথচ ইতিমধ্যে ৮ সপ্তাহের কাজের ৬ সপ্তাহের বিল উত্তোলন করা হলেও সে সব বিলে অনুপস্থিত শ্রমিকের সংখ্যা খুবই নগন্য বলে সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*