,

টেকনাফে পোলট্রি খামার করে সাবলম্বী কবির : দৈনিক ১৮ হাজার ডিম সরবরাহ ঃ কর্মচারী আছে ২০ জন

ফয়েজুল ইসলাম রানা, টেকনাফ []Teknaf Pic 07.02.2015 (Khamar)
সঠিক পরিকল্পনা আর পর্যাপ্ত শ্রম দিয়ে অল্প টাকায় বিনিয়োগ করে পোলট্রি খামারে সফল ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের খোনকার পাড়ার কবির আহমদ।
সে বিগত ২০১১ সনে তার বাবা খুইল্যা মিয়ার অনুপ্রেরণায় মাত্র ১ লক্ষ টাকায় মুলধন নিয়ে ৩০০ টি লেয়ার মুরগি পালনের মধ্য দিয়ে “সাগর পোলট্রি খামার” নামে ফার্মের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর ২০ হাজার লেয়ার মূরগী রয়েছে। ওই মুরগী থেকে তিনি দৈনিক ১৮ হাজার পিস ডিম টেকনাফের বিভিন্ন বাজার সরবরাহ করে। ফলে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন কবির। পাশাপাশি ও পোলট্রি ফার্মে রয়েছে শুধু তা-ই নয়, নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্যও তিনি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। রয়েছে ২০ জন কর্মচারী। প্রতি কর্মচারীর বেতন ৫ হাজারের উর্ধ্বে।
৭ ফেব্রুয়ারী সকালে খামারে গিয়ে দেখা যায়, মুরগিগুলো খামারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছে এবং সারিবদ্ধভাবে সাদা ডিম গুলো পড়ে আছে। কর্মচারীরা ডিম গুলো তুলে তালিতে ভরছেন। খামারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন খামার মালিক কবির আহমদ।
দৈনিক মানবজমিন টেকনাফ প্রতিনিধির সাথে একান্ত আলাপচারিতায় পোলট্রি ফার্মের মালিক কবির আহমদ বলেন, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অসীম ধৈর্য্যরে ফলে গড়ে উঠেছে আধুনিক এই পোলট্রি খামারটি।  Teknaf pic 07.2.2015 (khamar-3)
সে জানায় সৌদি আরব প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০০৯ সালে একবুক স্বপ্ন নিয়ে দেশের বাড়ী ফিরে কবির। স্বপ্ন ছিল দেশে এসে কিছু একটা করবে। পরিবেশ পরিস্থিতি না বুঝে বিদেশের কষ্টার্জিত সব টাকা সাবাড় করে হয়ে পড়ে একমুখি। হয়ে পড়ে হাতাশাগ্রস্থ। পরিবার পরিজন নিয়ে দূঃখে কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছিল। অবশেষে তার বাবার অনুপ্রেরনায় বিগত ২০১১ সনে মাত্র ৩০০ মুরগি নিয়ে গড়ে তুলে সাগর পোলট্রি খামার। সেই থেকে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তার আজকের এই সাফল্য ও অবস্থান। পোলট্রি শিল্পে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ অঞ্চলে আইডল তিনি।
সকল ঝুট ঝামেলা পেচনে ফেলে নিজেকে সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, তার সফলতা ও স্বচ্ছলতা এবং স্বপ্ন দেখে তার বাবা হাজী খুল্যা মিয়াও গড়ে তুলেন আরও একটি লিয়ার মোরগীর খামার। উপযুক্ত লিয়ার করে সকল ব্যবস্থাপনা সম্পন্নের মাধ্যমে এখন তার খামার থেকে প্রতিদিন ১৮ হাজার ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। এখন লাভের মুখ দেখে খুবই ভাল লাগছে তার। প্রতিটি ডিম ৬ থেকে ৭ টাকায় দোকানে বিক্রি করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা উপার্জন করছে। বর্তমানে খামারে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
সর্বশেষে খামারী কবির আহমদ বলেন- বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর কারণে তেল দিয়ে জেনেরেটর ব্যবহার করার ফলে লোকসানও গুনতে হয়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি হলে খামার ব্যবসায় আরও অনেক ভাল হবে।
বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখা ব্যবস্থাপক শাহজাহান মনির জানান- ২ টি খামারকে বিনিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক শিল্প, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ানে খামার করে স্বচ্ছল হওয়ায় অবশ্যই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খুশি।
টেকনাফ বাস ষ্টেশন ডিম আরৎদার জানে আলম ফারুক জানান- টেকনাফে দৈনিক ৩০ হাজার ডিমের চাহিদা রয়েছে, তান্মধ্যে টেকনাফ কোনখারপাড়ার খামার থেকে ১৮ হাজার ডিম নিয়ে চাহিদা পূরন করা হয়। বাকি ১০ হাজার কক্সবাজার থেকে আনতে হয়।
টেকনাফ উত্তর লম্বরীর হাজি মোহাম্মদ কাশেম বলেন, টেকনাফে এরকম  মুরগীর খামার হতে পারে আমার বিশ্বাস হয়না, আমি দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেও একটি খামার গড়ে তোলব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*