,

টেকনাফ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরটি নামে থাকলেও সেবা থেকে বঞ্চিত জনগন

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ [] images (3)
টেকনাফ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরটি নামে থাকলেও কাজে নেই। এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি এখন অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। গত ৬ বছর ধরে এ দপ্তরে কর্মকর্তার পদ শূণ্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে এ দপ্তরটি জোড়াতালির মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে। সুতারাং এ দপ্তরটি কোন ধরনের জবাবদীহিতা ছাড়াই চলছে। সম্পূর্ণরূপে এ দপ্তর থেকে সেবা বঞ্চিত জনগণ। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শুধু বসে বসে সরকারী বেতন ভাতা উঠাচ্ছে মাত্র। কাজের কাজ বলতে কিছুই হচ্ছেনা।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দপ্তরের অধীনে কি পরিমাণ জনস্বার্থে সুপিয় খাবার পানী ও স্যানিটেশন খাতে অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছিল, তা জনগণ জানার তো দুরের কথা জনপ্রতিনিধিরা পর্যন্ত জানেনা। এ নিয়ে এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটির উপর এখন আস্থা হারাতে বসেছে। স্থানীয় প্রশাসন এ দপ্তরের প্রতি ক্ষুদ্ধ। বর্তমানে এ দপ্তরে কার্যক্রম কাগজে কলমে, ফলাফল শূণ্য। টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে এবং সচেতনতার অভাব ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তারা দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাসিক সমন্নয় কমিটির সভায় অন্যান্য দপ্তরের কাজের বিবরণ তুলে ধরলেও এ দপ্তরের কাজের ফলাফল তো দুরের কথা কর্মকর্তাকে কোন সময় দেখা যায়নি। ফলে টেকনাফ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরটি এখন অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে।
গত ৬ বছর যাবৎ এ দপ্তরের অধীনে খাবার পানী ও স্যানিটেশন খাতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছিল, তাহা জনস্বার্থে কিয়দংশ পরিমান ব্যায় হয়নি। বরাদ্ধের সিংহভাগ অর্থ কর্মকর্তা, কর্মচারী, জনপ্রতিনিধির পকেটে চলে গেছে। এ দপ্তরের জন্য বরাদ্ধের দেয়া অধিকাংশ গভীর নলকূপ ও পাতকোয়া প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদের দখলে চলে গেছে। গরীবের  ভাগ্যে এসব জোটেনি। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এ দপ্তরের অধীনে খাবার পানিও স্যানিটেশন খাতে কি পরিমান অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে, কর্মচারীরা বলে, এ তথ্য আমাদের হাতে নেই। স্যার আসলে জানা যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ বছরে এ দপ্তরের অধীনে বরাদ্ধ দেয়া গভীর ও অগভীর নলকূপ, পাতকোয়া ও স্যানিটেশন খাতে কাজ না করেই কাগজে কলমে দেখিয়ে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে আতœাসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ দপ্তরের চতুরদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকাতে এটি এখন নিরাপত্তাহীন। এর উপর দিয়ে রাত দিন চলে মানুষের অবাধ যাতায়াত।
উখিয়া উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসেন এ দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও তাকে একদিন ও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নং- ০১৮২০২৩১১৯১ প্রায় যোগাযোগ করে ও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তার এ আচরন দেখে জানা যায়, তিনি একজন বড় মাপের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দূর্নীতিদমন বিভাগের সদস্য, তার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে উখিয়া এসে সরেজমিন পরিদর্শন করে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছিল।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকার ১ম পাতায় দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীয় শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
উল্লেখ্যঃ জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার খাবার পানির তীব্র সংকটাপন্ন। পর্যটন সীমান্ত এলাকা হিসাবে এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটিকে প্রধান্য দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশীল সমাজ। খোদ প্রশাসন চত্তরে বেশ কয়েকটি নলকূপ বিকল হয়ে গেছে অনেকদিন থেকে। এ দৃশ্যটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাকের ডগার উপর হলেও রয়েছে বেখবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*